
ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক বেসামরিক আগমন ও প্রস্থান ব্যতীত প্রায় সব ধরনের ফ্লাইটের জন্য ইরান সাময়িকভাবে তার আকাশসীমা বন্ধ ঘোষণা করেছে। বৃহস্পতিবার ভোরে জারি করা সরকারি বিমান চলাচল বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। খবর প্রকাশ করেছে আনাদোলু এজেন্সি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তেহরানের আকাশসীমা বন্ধ থাকবে। তবে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে কেবল আন্তর্জাতিক বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হবে।
নোটিশ অনুযায়ী, ইরানে প্রবেশকারী ও ইরান ত্যাগকারী আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক ফ্লাইটগুলো এই সীমিত অনুমতির আওতায় চলাচল করতে পারবে। তবে সামরিক, চার্টার কিংবা অন্যান্য সব ধরনের বিমান চলাচল এই সময়ের জন্য সম্পূর্ণভাবে স্থগিত থাকবে।
সরকারবিরোধী বিক্ষোভ, আন্তর্জাতিক তদন্তের চাপ এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা উদ্বেগের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাকে অবহিত করা হয়েছে যে ইরানে বিক্ষোভকারীদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর সাময়িকভাবে বন্ধ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হলে ওয়াশিংটন “খুব কঠোর ব্যবস্থা” নিতে পারে।
অন্যদিকে, জি-৭ দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে “ইচ্ছাকৃত সহিংসতার ব্যবহার” নিন্দা জানিয়ে ইরানি কর্তৃপক্ষকে সংযম প্রদর্শন ও মানবাধিকার সম্মান করার আহ্বান জানিয়েছেন। প্রয়োজনে অতিরিক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সংশ্লিষ্ট অস্থিরতা ও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনের অভিযোগ তুলেছেন। তবে পশ্চিমা দেশগুলো এই অভিযোগ জোরালোভাবে অস্বীকার করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ এখনো হতাহতের কোনো সরকারি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেনি। তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, ডিসেম্বরের শেষ দিকে বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে হাজার হাজার মানুষ নিহত ও আহত হয়েছে।
মন্তব্য করুন