
সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মধ্যে ইরানে হস্তক্ষেপের হুমকি দেওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি দেশটির বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত হানা হবে।
বুধবার এক জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তা এই তথ্য জানিয়েছেন বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে ইরান ইন্টারন্যাশনাল।
ওই কর্মকর্তা বলেন, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও তুরস্কসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে আগেই সতর্ক করেছে তেহরান। যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর হামলা চালায়, তবে এসব দেশের মাটিতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে।
তিনি আরও জানান, ইরান সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে অনুরোধ জানিয়েছে—তারা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য যেকোনো সামরিক পদক্ষেপ ঠেকাতে উদ্যোগ নেয়।
এদিকে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ টানা তৃতীয় সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট প্রথম মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের প্রস্তুতিও নিচ্ছে তেহরান। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এক তরুণের মৃত্যুদণ্ড যেকোনো সময় কার্যকর হতে পারে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী এরফান সোলতানি বুধবার (১৪ জানুয়ারি) মৃত্যুদণ্ডের মুখে পড়তে পারেন। গত বৃহস্পতিবার গ্রেপ্তারের পর দ্রুত বিচার শেষে তাকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা ঘোষণা করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, তেহরানের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠের শহর কারাজ থেকে সোলতানিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইন্টারনেট বন্ধ হওয়ার আগে দেশজুড়ে বিক্ষোভ যখন চরমে পৌঁছায়, তখনই এই গ্রেপ্তার ঘটে। গত সপ্তাহে গ্রেপ্তার হওয়া হাজারো বিক্ষোভকারীর মধ্যে তিনি একজন।
এরফান সোলতানির মামলাকে কেন্দ্র করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, ভিন্নমত দমন ও জনগণকে ভয় দেখানোর উদ্দেশ্যে ইরানি কর্তৃপক্ষ আবারও দ্রুত বিচার ও নির্বিচার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পথে হাঁটতে পারে।
অ্যামনেস্টির সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, ১১ জানুয়ারি সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে—কর্তৃপক্ষ সোলতানির পরিবারকে তার মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি অবহিত করেছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, ব্যাপক বিক্ষোভ ও ইন্টারনেট বন্ধের পরিপ্রেক্ষিতে ৮ জানুয়ারি থেকে এরফান সোলতানির সঙ্গে তার পরিবারের যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন