
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে দাম নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। শেষ কয়েক দিনের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৪ ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি গত দুই মাসে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সকালে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬৪ ডলার ১৫ সেন্টে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে মার্কিন তেলের মানদণ্ড WTI ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৫৯ ডলার ৭৮ সেন্টে উন্নীত হয়েছে, যা গত ৮ ডিসেম্বরের পর সর্বোচ্চ।
ওপেকের অন্যতম প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশ ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ এবং মার্কিন হুমকির কারণে বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ইরানে ১৬ দিন ধরে চলা বিক্ষোভে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ৬৪৮ জন নিহত হয়েছেন, জানিয়েছে নরওয়েজভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কেবল সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেননি, তিনি ঘোষণা করেছেন যে যেসব দেশ ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করবে, তাদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্প আজ তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বসতে পারেন ইরান বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের জন্য।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের মতো বড় উৎপাদনকারীর সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ‘ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি প্রিমিয়াম’ বাড়িয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ব্যাংক বার্কলেস জানিয়েছে, ব্যারেলপ্রতি ৩ থেকে ৪ ডলার মূলত রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরানের পাশাপাশি ভেনেজুয়েলা ও ইউক্রেনের পরিস্থিতিও তেলের বাজারে প্রভাব ফেলছে। ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর ট্রাম্প জানিয়েছেন, নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে ৫ কোটি ব্যারেল তেল হস্তান্তর করতে পারে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের খারকিভসহ বড় শহরগুলোতে রাশিয়ার নতুন হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি করেছে। এই সব সংঘাত জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।
মার্কিন অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাও তেলের চাহিদাকে প্রভাবিত করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ফেডারেল রিজার্ভের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি নিয়ে এই অনিশ্চয়তা তেলের দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা সংকুচিত করতে পারে।
মোটের ওপর, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং ওয়াশিংটনের কঠোর বাণিজ্যিক নীতি বিশ্বজ্বালানি বাজারকে এক অস্থিতিশীল ও অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন