
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকির কঠোর জবাব দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে যুদ্ধ মোকাবিলার জন্য ইরান এখন সম্পূর্ণ প্রস্তুত।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা আরবিকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে আরাঘচি বলেন, “ওয়াশিংটন যদি আবারও ইরানকে পরীক্ষা করতে চায়, তবে তেহরান দাঁতভাঙা জবাব দিতে প্রস্তুত।” তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১২ দিনের সংঘাত থেকে শিক্ষা নিয়ে ইরান বর্তমানে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি বৃহৎ ও বিস্তৃত সামরিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সম্প্রতি ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমন নিয়ে কড়া অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরপরই তেহরানের পক্ষ থেকে এই শক্ত প্রতিক্রিয়া এলো।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের ঘটনার উদাহরণ টেনে ইরানের ক্ষেত্রেও “শক্তিশালী বিকল্প” ব্যবহারের ইঙ্গিত দেন। তিনি জানান, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার জন্য বৈঠকের আয়োজন করা হলেও, বিক্ষোভকারীদের ওপর দমন-পীড়ন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে।
এই হুমকির জবাবে আরাঘচি বলেন, অতীতেও সামরিক পথ বেছে নিয়ে ওয়াশিংটন ব্যর্থ হয়েছে এবং আবার সেই ভুল করলে ইরান তা মোকাবিলায় সক্ষম। তবে একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ করেনি তেহরান।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে এক ভয়াবহ স্নায়ুযুদ্ধ শুরু হয়েছে। শুরুতে জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু হলেও, দ্রুত তা সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভে রূপ নেয়। ইরানের অভিযোগ, এই অস্থিরতা উসকে দিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল জড়িত।
আরাঘচি সতর্ক করে বলেন, কিছু শক্তি নিজেদের স্বার্থ রক্ষা এবং বিশেষ করে ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর চেষ্টা করছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ওয়াশিংটন হঠকারিতা পরিহার করে সংলাপ ও কূটনীতির পথ বেছে নেবে।
ইরান সরকার দাবি করছে, অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক যেকোনো সংকট মোকাবিলায় তারা এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সংকটের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে। আরাঘচি হুঁশিয়ারি দেন, বিদেশি হস্তক্ষেপ হলে তার আগুন পুরো অঞ্চলকে গ্রাস করতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভেনেজুয়েলার মতো ইরানেও কোনো ঝটিকা সামরিক অভিযান শুরু হলে তা একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। ফলে বিশ্ব রাজনীতির নজর এখন ট্রাম্পের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং তেহরানের প্রতিরক্ষা কৌশলের ওপর নিবদ্ধ।
সূত্র: আল জাজিরা
মন্তব্য করুন