
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে চলমান সংঘাতে গাজা উপত্যকায় নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭১ হাজার ৪১৯ জনে। একই সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ১ লাখ ৭১ হাজার ৩১৮ জন। সোমবার (১২ জানুয়ারি) গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এই ভয়াবহ পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে।
মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, ২০২৫ সালের ১১ অক্টোবরের পর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনায় নতুন করে ৪৪২ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৪০ জন আহত হয়েছেন। চলমান যুদ্ধ ও বিমান হামলায় গাজার প্রায় ৯০ শতাংশ বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা পুনর্গঠনে প্রয়োজন হবে প্রায় ৭০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এই পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় আবাসন, হাসপাতাল, স্কুল, বিদ্যুৎ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো।
এদিকে, ফিলিস্তিনি সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আনুমানিক ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের অনেকেই নিহত বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক বলেন, জরুরি চিকিৎসার জন্য গাজার বাইরে অন্তত ১৮ হাজারের বেশি রোগীকে স্থানান্তর করা প্রয়োজন। বর্তমানে গাজার স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে।
অন্যদিকে, ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে, সংঘাতের কারণে গাজায় ৩৯ হাজারের বেশি শিশু এক বা উভয় অভিভাবককে হারিয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ হাজার শিশু সম্পূর্ণ এতিম, যা আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় এতিম সংকট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়। প্রথম ধাপে জিম্মি মুক্তি, ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার ও মানবিক ত্রাণ প্রবেশের ব্যবস্থা করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে গাজা থেকে পূর্ণ সেনা প্রত্যাহার, আন্তর্জাতিক বাহিনী মোতায়েন এবং নতুন প্রশাসনিক কাঠামো গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্তব্য করুন