
যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (আইস) কর্মকর্তার গুলিতে এক নারী নিহত হওয়ার ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রবল ঠান্ডা ও ঝোড়ো হাওয়া উপেক্ষা করে শহরটির রাস্তায় নেমে আসেন কয়েক হাজার বিক্ষোভকারী। একই দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভ ও সমাবেশের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
বুধবার (৭ জানুয়ারি) মিনিয়াপোলিসে আইস কর্মকর্তার গুলিতে ৩৭ বছর বয়সী রেনে গুড নিহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির রাজনীতি ও প্রশাসনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ও সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের মধ্যে ঘটনার ব্যাখ্যা নিয়ে প্রকাশ্য মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
প্রায় ৩৮ লাখ মানুষের বসবাস মিনিয়াপোলিস মহানগর এলাকায়। শনিবারের বিক্ষোভে আদিবাসী মেক্সিকান নৃত্যশিল্পীদের একটি দলের নেতৃত্বে মিছিল করেন আন্দোলনকারীরা। তারা সেই আবাসিক সড়কের দিকে অগ্রসর হন, যেখানে নিজের গাড়ির ভেতর গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারান রেনে গুড।
মিনিয়াপোলিস পুলিশ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল কয়েক হাজারেরও বেশি। আন্দোলনকারীরা ‘রেনে গুডের বিচার চাই’, ‘অ্যাবলিশ আইস’, ‘নো জাস্টিস, নো পিস—গেট আইস আউট অব আওয়ার স্ট্রিটস’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
৩০ বছর বয়সী বিক্ষোভকারী এলিসন মন্টগোমারি ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ ও হৃদয়ভাঙা। তবে ভেতরে কোথাও একটা আশা আছে—এই আন্দোলন হয়তো পরিবর্তন আনবে।
মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের কর্মকর্তারা এই গুলির ঘটনাকে অযৌক্তিক বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের দাবি, প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে দেখা গেছে, গুডের গাড়িটি আইস কর্মকর্তার কাছ থেকে সরে যাচ্ছিল, এমন সময় গুলি চালানো হয়।
অন্যদিকে, আইসের তত্ত্বাবধায়ক সংস্থা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) দাবি করেছে, ওই কর্মকর্তা আত্মরক্ষার্থেই গুলি চালান। ডিএইচএসের ভাষ্য অনুযায়ী, গুড গাড়িটি কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন। এর আগে আরেক আইস কর্মকর্তা তাকে গাড়ি থেকে নামার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
এই গুলির ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন মিনিয়াপোলিস–সেন্ট পল এলাকায় প্রায় দুই হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করা হয়। ডিএইচএস এটিকে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অভিযান বলে দাবি করেছে। এতে রাজ্যের ডেমোক্র্যাট নেতৃত্ব ও ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যে উত্তেজনা আরও বেড়েছে।
ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ওরেগনের পোর্টল্যান্ডে একই ধরনের আরেকটি ঘটনায় এক নারী ও এক পুরুষ গুলিবিদ্ধ হন। সেখানে এক মার্কিন বর্ডার প্যাট্রোল কর্মকর্তা গাড়ি থামানোর চেষ্টা করলে গুলি চালানো হয়। মিনিয়াপোলিসের ঘটনার মতোই ডিএইচএস দাবি করে, চালক গাড়িটিকে ‘অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার’ করতে চেয়েছিলেন।
এই ধারাবাহিক গুলির ঘটনার প্রতিবাদে ইন্ডিভিজিবল ও আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (এসিএলইউ)-সহ বিভিন্ন নাগরিক অধিকার সংগঠন ‘আইস আউট ফর গুড’ ব্যানারে শনিবার ও রোববার (১০–১১ জানুয়ারি) দেশজুড়ে এক হাজারেরও বেশি কর্মসূচির ডাক দেয়। সহিংসতা এড়াতে সব সমাবেশ সূর্যাস্তের আগেই শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ফিলাডেলফিয়ায় বিক্ষোভকারীরা সিটি হল থেকে একটি ফেডারেল আটক কেন্দ্রে মিছিল করেন। সেখানে ‘আইসকে চলে যেতে হবে’ ও ‘নো ফ্যাসিস্ট ইউএসএ’ স্লোগান শোনা যায়। নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে কয়েকশ মানুষ অভিবাসন আদালতের পাশ দিয়ে মিছিল করেন, যেখানে শুনানি শেষে অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
ইন্ডিভিজিবলের সহ-নির্বাহী পরিচালক লিয়া গ্রিনবার্গ বলেন, “আমরা রেনের জন্য বিচার চাই, আমাদের সমাজ থেকে আইসকে বের করে দিতে চাই এবং নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ চাই। অনেক হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
মন্তব্য করুন