
ডেনমার্কের অধীন খনিজসমৃদ্ধ দ্বীপ গ্রিনল্যান্ড দখলে নিতে এক অভাবনীয় কৌশল নিয়ে আলোচনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরীণ আলোচনার সঙ্গে জড়িত একাধিক সূত্রের বরাতে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডের প্রায় ৫৭ হাজার বাসিন্দার প্রত্যেককে ১০ হাজার থেকে এক লাখ মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে ওয়াশিংটনের।
মূল উদ্দেশ্য হলো, ডেনমার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত হতে অর্থের টোপ দিয়ে প্রলুব্ধ করা। তবে এই প্রস্তাব শুরু থেকেই ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের কর্মকর্তারা ‘কল্পনাপ্রসূত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। স্পষ্ট ভাষায় জানানো হয়েছে—গ্রিনল্যান্ড বিক্রির জন্য নয়।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রহ বাড়তে থাকায় চরম সামরিক সতর্কতা জারি করেছে ডেনমার্ক। দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি গ্রিনল্যান্ডে কোনো ধরনের আগ্রাসন চালায়, তবে সেখানে মোতায়েন ডেনিশ সেনাদের ‘আগে গুলি, পরে প্রশ্ন’ করার নির্দেশ রয়েছে।
ডেনিশ সেনাবাহিনীর ১৯৫২ সালের একটি নিয়ম অনুযায়ী, বহিঃশত্রুর আক্রমণের ক্ষেত্রে সেনারা ঊর্ধ্বতন কমান্ডের অনুমতির অপেক্ষা না করেই তাৎক্ষণিক প্রতিরোধমূলক হামলা চালাতে পারে। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানের পর গ্রিনল্যান্ড নিয়েও ট্রাম্প সামরিক শক্তি ব্যবহারের ইঙ্গিত দেওয়ায় এই অবস্থান আরও কঠোর করেছে কোপেনহেগেন।
আর্কটিক অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তার ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডকে ‘অত্যাবশ্যক’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, দ্বীপটি দখলে নিতে তাঁর হাতে সামরিক বিকল্পও খোলা রয়েছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইন্স ফ্রেদেরিক নিলসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের এমন মনোভাবের কঠোর সমালোচনা করেন এবং এ বিষয়ে আর কোনো আলোচনা না করার আহ্বান জানান।
জনমত জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের মানুষ ডেনমার্ক থেকে স্বাধীনতা চাইলেও, তারা কোনোভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে যেতে আগ্রহী নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত গ্রিনল্যান্ডে সামরিক পদক্ষেপ নেন, তাহলে তা নেটো জোটে বড় ধরনের বিভক্তি সৃষ্টি করতে পারে। ইতোমধ্যে ইউরোপের একাধিক প্রভাবশালী দেশ ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের এই একতরফা অবস্থানের নিন্দা জানিয়েছে।
খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ এই বিশাল দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্কের বিরোধ এখন বিপজ্জনক সামরিক উত্তেজনায় রূপ নিচ্ছে। একদিকে বিপুল অর্থের প্রস্তাব, অন্যদিকে যুদ্ধের হুমকি—এই দ্বিমুখী চাপে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম আলোচিত ইস্যু হয়ে উঠেছে।
সূত্র: এনডিটিভি
মন্তব্য করুন