
সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে আনার পর এবার দেশটির বিপুল জ্বালানি তেল যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন তিনি।
পোস্টে ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলার বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের মতৈক্যের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রথম চালান হিসেবে ৩ থেকে ৫ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছানোর পর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচলিত দরের ভিত্তিতে এই তেল বিক্রি করা হবে বলেও জানান তিনি।
ভেনেজুয়েলার তেলের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে দেশটি মুক্তভাবে তেল বিক্রি করতে পারছিল না। নতুন এই উদ্যোগকে সেই নিষেধাজ্ঞার বাস্তব প্রয়োগে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রুথ সোশ্যাল পোস্টে ট্রাম্প আরও বলেন, ভেনেজুয়েলা থেকে স্টোরেজ ট্যাংকার জাহাজে করে সরাসরি এই তেল যুক্তরাষ্ট্রের বন্দরে আনা হবে এবং সেখান থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি দাবি করেন, এই পরিকল্পনা ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র—উভয় দেশের জনগণের জন্যই লাভজনক হবে। দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানিসম্পদমন্ত্রী ক্রিস রাইটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সরকারি বাসভবন ও দপ্তর হোয়াইট হাউস-এ যোগাযোগ করে সংবাদমাধ্যম সিএনএন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে জানান, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ইতোমধ্যে তেল রপ্তানিতে সম্মতি দিয়েছে এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ভেনেজুয়েলা বিশ্বের সবচেয়ে তেলসমৃদ্ধ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি তথ্য সংস্থা ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (EIA)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটির খনিতে কমপক্ষে ৩০ হাজার ৩০০ কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুত রয়েছে, যা বৈশ্বিক মোট মজুতের প্রায় এক পঞ্চমাংশ।
তবে এত বিপুল মজুত থাকা সত্ত্বেও ভেনেজুয়েলার দৈনিক তেল উৎপাদন তুলনামূলকভাবে কম। বর্তমানে দেশটি প্রতিদিন গড়ে মাত্র ১০ লাখ ব্যারেল তেল উৎপাদন করছে, যা বিশ্ববাজারে দৈনিক মোট সরবরাহের মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ।
ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল সাধারণত ভারী ও ঘন প্রকৃতির হওয়ায় উত্তোলন ও পরিশোধনে অতিরিক্ত প্রযুক্তি ও যত্ন প্রয়োজন হয়। তবে এই তেল পরিশোধনের মাধ্যমে উচ্চমানের ডিজেল, অ্যাসফল্ট, শিল্পকারখানায় ব্যবহৃত জ্বালানি এবং ভারী যন্ত্রপাতির জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন জ্বালানিপণ্য উৎপাদন করা সম্ভব।
মন্তব্য করুন