
ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক সিটির একটি কারাগারে রাখা হয়েছে। এক ঝটিকা অভিযানে তাকে আটকের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মার্কিন বিশেষ বাহিনী ভেনেজুয়েলা থেকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে আসে।
মাদুরোকে আটকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা দেন, এখন থেকে ভেনেজুয়েলা কার্যকরভাবে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
এর আগে শনিবার ভোরে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক বিমান হামলা চালানো হয়। হামলার পর মার্কিন কমান্ডোরা রাজধানী অবরুদ্ধ করে প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে।
সূত্র জানায়, মাদুরোকে বহনকারী মার্কিন সামরিক বিমানটি প্রথমে একটি মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণ করে। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে তাকে নিউইয়র্ক সিটিতে নেওয়া হয়।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তথাকথিত মাদক পাচার ও অবৈধ অস্ত্র রাখার অভিযোগে মাদুরো দম্পতিকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যায়, হাতকড়া পরা ও স্যান্ডেল পায়ে ৬৩ বছর বয়সী মাদুরোকে নিউইয়র্কে মার্কিন ড্রাগ এনফোর্সমেন্ট অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ডিইএ)–এর কর্মকর্তারা নিয়ে যাচ্ছেন। ভিডিওতে মাদুরোকে ইংরেজিতে 'গুড নাইট, হ্যাপি নিউ ইয়ার' বলতে শোনা যায়।
ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ভেনেজুয়েলা পরিচালনার জন্য তিনি তার মন্ত্রিসভা থেকে লোক নিয়োগ দিচ্ছেন, যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
তিনি সেখানে মার্কিন সেনা মোতায়েনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, আমরা সরাসরি লড়াইয়ে নামতে ভয় পাই না।
ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরোধী দলকে ক্ষমতায় বসানোর পক্ষে নন বলেই মনে হচ্ছে। বরং তিনি মাদুরোর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের মূল লক্ষ্য ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল খনি। ট্রাম্প বলেন, আমাদের বড় বড় তেল কোম্পানিগুলো সেখানে যাবে, কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগ করে ভেঙে পড়া অবকাঠামো মেরামত করবে। আমরা সেখান থেকে বিপুল পরিমাণ তেল বিক্রি করবো।
মন্তব্য করুন