
ইরানে নজিরবিহীন মুদ্রাস্ফীতি ও রিয়ালের পতনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ ও ধর্মঘট দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। মূলত তেহরান ছাড়িয়ে কারাজ, হামেদান, কেশম, মালার্দ, ইসপাহান, কেরমানশাহ, শিরাজ ও ইয়াজদ শহরেও এই প্রতিবাদ দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করেছে।
গত রোববার তেহরানের খোলাবাজারে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের মূল্য সর্বনিম্নে পৌঁছায়, যা নতুন রেকর্ড গড়েছে। এর পরই দোকানিরা ধর্মঘট শুরু করেন। ইরান সরকার জানায়, তারা বিক্ষোভকারীদের দাবি শোনার জন্য ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করবেন, যদিও পরিস্থিতি কঠোর। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরাও বিক্ষোভে যোগ দিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন।
এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের চলমান বিক্ষোভকে প্রভাবিত করতে মোসাদ যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে ‘মাঠে রয়েছি’ বলে তাদের সহায়তার বার্তা দিয়েছে। মোসাদের একটি এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে ফার্সিতে প্রচারিত বার্তায় বলা হয়েছে, “আপনাদের সঙ্গে আমরা ময়দানে আছি, এখনই সড়কে নামার সময়।”
ইরানের অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে অস্থিতিশীল। রিয়ালের মূল্যমান কমার ফলে আমদানি ব্যয় বেড়েছে, এবং খুচরা দোকানিরা বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন। চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৈঠকের পর ইরানকে নতুন হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প।
২০২৪ সালের জুনে ইরান-ইসরায়েল ১২ দিনের সংঘর্ষে জড়ায়। ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের পরমাণু স্থাপনা ও আবাসিক এলাকা লক্ষ্য হয়। পাল্টা জবাব দেয় ইরান, পরে যুক্তরাষ্ট্রও সংঘর্ষে যুক্ত হয়। এই সংঘাতের পর ইরান এবং ইসরায়েল শান্তি স্থাপনে সম্মত হয়।
ইরান এখনও ইসরায়েলকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়নি এবং মোসাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ করেছে। বিশেষত পরমাণু স্থাপনা ধ্বংস ও বিজ্ঞানী হত্যার ঘটনায় মোসাদের জড়িত থাকার কথা বলা হয়।
পশ্চিমা বিশ্ব ইরানের হামাস ও হিজবুল্লাহ সমর্থনের অভিযোগ তুলে এসেছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সাবেক হামাস নেতা ইসমাইল হানিয়ার তেহরান হত্যাকাণ্ডেও মোসাদের জড়িত থাকার সন্দেহ করা হয়।
বর্তমানে ইরানজুড়ে চলমান বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও রাজনৈতিক উত্তেজনা দেশটির অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য করুন