
চীন ও তাইওয়ানের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নববর্ষের প্রাক্কালে দেশবাসীর উদ্দেশে বিশেষ ভাষণে দ্বীপ রাষ্ট্র তাইওয়ানকে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে পুনরায় একীভূত করার দৃঢ় অঙ্গীকার প্রকাশ করেছেন।
শি জিনপিং তার ভাষণে বলেন, মাতৃভূমিকে একীভূত করা এখন সময়ের দাবি, এবং এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়াকে কোনো শক্তিই বাধা দিতে পারবে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘোষণা ‘জাস্টিস মিশন ২০২৫’ নামের দুই দিনব্যাপী বিশাল সামরিক মহড়ার ঠিক একদিন পর এসেছে। মহড়ায় চীন অন্তত ২০০টি যুদ্ধবিমান এবং কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে, যা তাইওয়ানকে কার্যত অবরুদ্ধ করে।
তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মহড়ার সময় চীন অন্তত ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে, যার বেশ কয়েকটি দ্বীপটির উপকূল থেকে মাত্র ২৭ নটিক্যাল মাইল দূরে আঘাত হানে। যদিও মহড়া শেষ হয়েছে, তাইওয়ান এখনও উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে, কারণ চীনের নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের ২৫টি জাহাজ এবং নজরদারি বেলুন দ্বীপের চারপাশে অবস্থান করছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ১,১০০ কোটি ডলারের আধুনিক অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের প্রতিক্রিয়ায় চীন এই সামরিক প্রস্তুতি দেখিয়েছে। শি জিনপিংয়ের ভাষণের সময় চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে গত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত বৃহত্তম সামরিক কুচকাওয়াজের দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে, যেখানে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং-উন উপস্থিত ছিলেন।
পশ্চিমা বিশ্লেষকরা চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার সামরিক ঘনিষ্ঠতাকে 'উত্থানের অক্ষ' হিসেবে বর্ণনা করছেন। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো চীনের সামরিক সক্ষমতা ও তাইওয়ানে সম্ভাব্য আক্রমণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
অন্যদিকে, তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে চীনের আধিপত্যবাদী উচ্চাকাঙ্ক্ষা সম্পর্কে সতর্ক করে তাইওয়ানের সার্বভৌমত্ব রক্ষার শপথ নিয়েছেন। তিনি দেশের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বাজেট বৃদ্ধির জন্য পার্লামেন্টের বিরোধী দলগুলোর সহযোগিতা আহ্বান করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জাপান ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন চীনের সামরিক উসকানির সমালোচনা করলেও চীন বিষয়টিকে পুরোপুরি অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে ঘোষণা করেছে। দক্ষিণ চীন সাগরে চীনের আধিপত্য বিস্তারের প্রচেষ্টা এশিয়ার ভূ-রাজনীতি আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
মন্তব্য করুন