
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী থিংকট্যাংক কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশন্স (সিএফআর) সতর্ক করেছে, যে সন্ত্রাসী তৎপরতার বৃদ্ধি ২০২৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আবারও সশস্ত্র সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির বিশেষজ্ঞদের ওপর করা জরিপে এই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
সিএফআর-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের মে মাসে জম্মু ও কাশ্মিরের পেহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বল্প সময়ের একটি সামরিক সংঘাত ঘটে। ভারতীয় সেনাবাহিনী ‘অপারেশন সিন্দুর’ নামে পাকিস্তানের ভেতরে কথিত সন্ত্রাসী শিবির লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ভারতের দাবি অনুযায়ী, অভিযানে ১০০-এর বেশি জঙ্গি এবং ৯টি সন্ত্রাসী শিবির ধ্বংস করা হয়।
প্রতিক্রিয়ায়, পাকিস্তান ৭ থেকে ১০ মে পর্যন্ত সশস্ত্র ড্রোন হামলা চালানোর চেষ্টা করে। ভারতীয় সেনাবাহিনী সব ড্রোন অনুপ্রবেশ প্রতিহত করতে সক্ষম হয়, এবং কোনো প্রাণহানি বা ক্ষয়ক্ষতি ঘটেনি। উত্তেজনা কমাতে শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের সামরিক নেতৃত্ব নিয়ন্ত্রণরেখায় গোলাগুলি ও সামরিক তৎপরতা বন্ধে সমঝোতায় পৌঁছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের সীমান্তেও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। অক্টোবরের শুরুতে কাবুলে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) প্রধান নুর ওয়ালি মেহসুদ-কে লক্ষ্য করে পাকিস্তান বিমান হামলা চালায়। আফগানিস্তানের কঠোর প্রতিক্রিয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
সিএফআর সতর্ক করে জানিয়েছে, যদি আফগানিস্তান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বৃদ্ধি পায়, তবে ২০২৬ সালে আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে মাঝারি মাত্রার সশস্ত্র সংঘাতের সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই ধরনের দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করতে পারে।
মন্তব্য করুন