
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন জানাচ্ছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলা এখন কেবল সাংবাদিকদের হত্যা, আহত করা বা গ্রেপ্তার সীমাবদ্ধ নেই। বরং সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদেরকেও পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
শনিবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে ইউনিয়ন জানিয়েছে, সাংবাদিকদের আত্মীয়স্বজনদের ওপর হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে উদ্দেশ্য স্পষ্ট: সাংবাদিকদের পেশাকে একটি অস্তিত্ব সংকটের মুখে ঠেলা। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক পরিবার প্রিয়জনের পেশার কারণে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের ফ্রিডমস কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩, ২০২৪ এবং ২০২৫ সালে সাংবাদিকদের পরিবারের ওপর হামলা একটি পুনরাবৃত্ত এবং সংগঠিত ধারায় পরিণত হয়েছে। এই সময়ে গাজা উপত্যকায় প্রায় ৭০৬ জন সাংবাদিকের আত্মীয় নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালে কমিটি অনুযায়ী ৪৩৬ জন, ২০২৪ সালে ২০৩ জন এবং ২০২৫ সালে এ পর্যন্ত অন্তত ৬৭ জন নিহত হয়েছেন। এ সময় অনেক পরিবার জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত হয়ে তাঁবু বা অস্থায়ী আশ্রয়ে বসবাস করতে বাধ্য হয়েছেন।
সর্বশেষ ঘটনায়, কয়েক দিন আগে উদ্ধারকর্মীরা সাংবাদিক হিবা আল-আবাদলা, তার মা এবং আল-আস্তাল পরিবারের প্রায় ১৫ জন সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেন। প্রায় দুই বছর আগে খান ইউনিসের পশ্চিমে তাদের বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়েছিল।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়ন জানিয়েছে, এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে শত শত শিশু, নারী ও বৃদ্ধ শুধুমাত্র পরিবারের একজন সদস্যের সাংবাদিকতা পেশার কারণে নিহত হয়েছেন। তারা একে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
মন্তব্য করুন