
২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর টানা পাঁচ বছর ধরে গৃহযুদ্ধের মধ্যে রয়েছে মিয়ানমার। এমন উত্তাল রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেই দেশটিতে জাতীয় পার্লামেন্ট ও প্রাদেশিক আইনসভার নির্বাচন শুরু হয়েছে।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) স্থানীয় সময় সকাল ৬টা থেকে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়, যা বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিটে শুরু হয়েছে। একযোগে জাতীয় সংসদ ও প্রাদেশিক পরিষদের জন্য ভোট দিচ্ছেন ভোটাররা।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে— রাজধানী নেইপিদো, বাণিজ্যিক রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়সহ সামরিক জান্তা নিয়ন্ত্রিত শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভোটগ্রহণ চলছে। তবে বিদ্রোহী ও প্রতিরোধকারী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা অঞ্চল ও প্রদেশগুলোতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে না।
জানা গেছে, এবারের নির্বাচন তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ও দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে আজ (২৯ ডিসেম্বর) এবং আগামী ১১ জানুয়ারি। এই দুই ধাপে দেশের মোট ৩৩০টি প্রশাসনিক এলাকার মধ্যে ২০২টিতে ভোট নেওয়া হবে। তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ জানুয়ারি, এরপর ফলাফল ঘোষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। সেই নির্বাচনে গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি) বিপুল বিজয় অর্জন করে।
তবে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এনএলডি সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয় সেনাবাহিনী। ওই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং। এরপর থেকেই দেশজুড়ে সংঘাত ও রাজনৈতিক অস্থিরতা চলমান রয়েছে।
মন্তব্য করুন