
পশ্চিম আফ্রিকার দেশ সেনেগালের উপকূলে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৫০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে যাওয়ার পথে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। নৌকাটিতে প্রায় ২০০ জন অভিবাসী ছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩০ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সংবাদমাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড জানায়, একটি বেসরকারি মানবাধিকার সংস্থার তথ্য অনুযায়ী এই নৌকাডুবিতে নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। মানবাধিকার সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস–এর প্রধান হেলেনা মালেনো গারসন শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, যখন আমরা বড়দিন উদযাপন করছি, তখন শত শত পরিবার গভীর শোকে ডুবে আছে।
তার ভাষ্যমতে, গত বুধবার সেনেগাল উপকূলে সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় কমপক্ষে ১৬৯ জনের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের আশঙ্কা।
সেনেগালের প্রভাবশালী দৈনিক লে সোলেয়র জানিয়েছে, নৌকাটিতে প্রায় ২০০ যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩০ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হলেও এখন পর্যন্ত ১২ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে। আরও কয়েকজনের মরদেহ স্বজনেরা শনাক্ত করেছেন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, নৌকাটি ২২ ডিসেম্বর সলুম দ্বীপপুঞ্জের দিয়ামনিয়াদিও এলাকা থেকে যাত্রা শুরু করে। যাত্রাপথে নৌকার দুটি ইঞ্জিনই বিকল হয়ে যায়। এরপর নৌকার ক্যাপ্টেন কাছের একটি সৈকতে পৌঁছানোর চেষ্টা করেন এবং সহায়তার জন্য একটি ছোট নৌকা আনতে বলেন। এ সময় আতঙ্কিত যাত্রীরা পানিতে নামলে ঠেলাঠেলি ও বিশৃঙ্খলার মধ্যে একাধিক মানুষ ডুবে যায়।
সেনেগাল কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানিয়েছে লে সোলেয়র।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সেনেগাল থেকে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জগামী সমুদ্রপথটি বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক অভিবাসন রুটগুলোর একটি। কামিনান্দো ফ্রন্তেরাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৪ সালে এই পথে যাত্রা করতে গিয়ে প্রায় ৯ হাজার ৭৫৭ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলতি বছরে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জে সমুদ্রপথে প্রবেশকারী অভিবাসীর সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৫৫৫ জন অভিবাসী সেখানে পৌঁছেছেন, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই সংখ্যা ছিল ৪৩ হাজার ৭৩৭ জন।
মন্তব্য করুন