
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পেলে রাজ্যটি একসময় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের অংশ হয়ে যেতে পারে—এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা।
মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গুয়াহাটিতে একটি সরকারি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বর্তমানে আসামের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। যদি এই হার আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছাবে যে আমরা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাব।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, এই কারণেই তিনি গত পাঁচ বছর ধরে জনসংখ্যাগত পরিবর্তন ও অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসন নিয়ে সরব রয়েছেন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এমন বক্তব্য দিয়েছেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেছিলেন, নয়াদিল্লি যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে ঢাকার উচিত ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করে রাখা এবং সেখানে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোকে সহায়তা দেওয়া।
তিনি আরও বলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, কারণ অঞ্চলটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডর, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত, তার ওপর নির্ভরশীল।
এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, “ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার মতো হুমকি ভারত কখনোই মেনে নেবে না।”
তার হুঁশিয়ারি, বাংলাদেশের নেতারা যদি এ ধরনের বক্তব্য অব্যাহত রাখেন, তাহলে দিল্লি আর দীর্ঘদিন নীরব থাকবে না।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে এজেন্ডা আজতক অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা দাবি করেন, কয়েক দশক ধরে চলা অনিয়ন্ত্রিত অভিবাসনের ফলে আদিবাসী অসমীয়া জনগোষ্ঠী আজ অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, আসামে মুসলিম জনসংখ্যা যদি ৫০ শতাংশ অতিক্রম করে, তাহলে অন্যান্য সম্প্রদায়ের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।
মুখ্যমন্ত্রীর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২১ সালে আসামের মুসলিম জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৩৮ শতাংশ। তবে ১৯৬১ সাল থেকে প্রতি দশকে গড়ে ৪–৫ শতাংশ হারে বৃদ্ধির ফলে ২০২৭ সালের মধ্যে তা ৪০ শতাংশ ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তিনি আরও জানান, ১৯৫১ সালে আসামের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৮০ লাখ, যা বর্তমানে বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩ কোটি ১০ লাখে। অথচ আদিবাসী জনসংখ্যা প্রায় ৭০ লাখের কাছাকাছি রয়ে গেছে। তার দাবি অনুযায়ী, বাকি প্রায় ২ কোটি ৪০ লাখ মানুষ অবৈধ অভিবাসী।
সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে
মন্তব্য করুন