
ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলায় দিল্লির আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তিনি দাবি করেছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত।
বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে খাড়গে বলেন, দিল্লির আদালতের এই সিদ্ধান্ত মোদি ও অমিত শাহের জন্য “এক বড় রাজনৈতিক চপেটাঘাত”। তার মতে, বিরোধীদের হয়রানি বন্ধ করতে হলে তাদের নৈতিক দায় স্বীকার করে পদত্যাগপত্র দেওয়া উচিত।
উল্লেখ্য, মঙ্গলবার দিল্লির রাউস অ্যাভিনিউ আদালত এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের (ইডি) জমা দেওয়া চার্জশিট গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায়। ওই চার্জশিটে কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
খাড়গে অভিযোগ করেন, গান্ধী পরিবারকে রাজনৈতিকভাবে হেনস্তা করতেই প্রতিহিংসামূলক উদ্দেশ্যে ন্যাশনাল হেরাল্ড মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তার ভাষায়, “এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক বদলা নেওয়ার হাতিয়ার।”
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিজেপি সরকার রাজনৈতিক লাভের আশায় বিরোধী নেতাদের বিরুদ্ধে ইডি-কে ব্যবহার করছে। তবে আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করে খাড়গে বলেন, “সত্যের জয় হয়েছে। আমরা এই রায়কে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই।”
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আইনের দৃষ্টিতে ইডির এই চার্জশিটের ওপর বিচারিক স্বীকৃতি দেওয়া সম্ভব নয়। আদালত আরও উল্লেখ করে, মামলাটিতে সিবিআইয়ের ভূমিকা এবং পিএমএলএ আইনের কাঠামো অযথা সম্প্রসারণের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের বিশেষ বিচারক বিষাল গোগনে জানান, এফআইআর ছাড়া কেবল ব্যক্তিগত অভিযোগের ভিত্তিতে অর্থ পাচারের মামলা শুরু করা আইনসম্মত নয়।
প্রসঙ্গত, জওহরলাল নেহরু প্রতিষ্ঠিত ন্যাশনাল হেরাল্ড পত্রিকা ঘিরে ২০১৩ সালে দুর্নীতির অভিযোগ তোলে বিজেপি। ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিষয়টি নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নেয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সংবাদপত্রটির মালিকানা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড জার্নালস লিমিটেডের বাজারে প্রায় ৯০ কোটি টাকার দেনা ছিল, যার বড় অংশ কংগ্রেসের কাছ থেকে নেওয়া ঋণ।
মন্তব্য করুন