
সান ফ্রান্সিসকোর ফেডারেল আদালতে ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন এইচ-১বি ভিসা নীতি চ্যালেঞ্জ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার, বিভিন্ন পেশার দক্ষ কর্মীরা ১ লাখ ডলারের ভিসা ফি স্থগিতের দাবিতে এই মামলা করেন। এ খবর প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
২০টি অঙ্গরাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেলরা এইচ-১বি ভিসা ফি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি করার পদক্ষেপকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন। প্রধান বাদি ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বনতা এবং ম্যাসাচুসেটসের অ্যাটর্নি জেনারেল জয় ক্যাম্পবেল। তাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন অ্যারিজোনা, কলোরাডো, কানেকটিকাট, ডেলাওয়ার, হাওয়াই, ইলিনয়েস, মেরিল্যান্ড, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নর্থ ক্যারোলাইনা, নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক, ওরিগন, রোড আইল্যান্ড, ভারমন্ট, ওয়াশিংটন এবং উইসকনসিনের অ্যাটর্নি জেনারেলরা।
মামলার অভিযোগপত্রে রব বনতা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এইচ-১বি ভিসার ফি ১ লাখ ডলারে উন্নীত করেছে, যা অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক এবং অবৈধ। এর ফলে ভিসার জন্য আবেদনকারীরা চাপের মুখে পড়ছেন, এবং যুক্তরাষ্ট্রে শ্রম বাজারে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়া অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করেছে, বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনৈতিক কেন্দ্র হিসেবে আমাদের দেশকে দক্ষ বিদেশি কর্মীর প্রয়োজনীয়তা বোঝা জরুরি।
এইচ-১বি ভিসা হল একটি বিশেষ কর্মসূচি, যার মাধ্যমে মার্কিন কোম্পানিগুলো অস্থায়ীভাবে দক্ষ বিদেশি কর্মী নিয়োগ দেয়। ২০০৪ সাল থেকে শুরু হওয়া এই ভিসা প্রকল্পের আওতায় প্রতি বছর ৮৫ হাজার বিদেশি কর্মী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পান। মূলত বিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, প্রকৌশল এবং ব্যবসা প্রশাসনের ক্ষেত্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এই ভিসা ব্যবহৃত হয়। অ্যামাজন, মাইক্রোসফট, মেটা, অ্যাপল, গুগল প্রভৃতি কোম্পানিগুলো এই ভিসা প্রকল্প থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পান।
এই ভিসার একটি প্রধান সুবিধা ছিল স্থায়ী বসবাস এবং নাগরিকত্বের সুযোগ। হালনাগাদ নিয়ম অনুযায়ী, ২০০৪ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত নিবন্ধিত কোম্পানিগুলো প্রতি বছর ১,৫০০ ডলার ফি দিত। কিন্তু গত সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প প্রশাসন ভিসা ফি একে ১ লাখ ডলারে বৃদ্ধি করে।
এই ফি বৃদ্ধির ফলে শুধু প্রযুক্তি খাত নয়, শিক্ষা ও চিকিৎসা খাতেও দক্ষ বিদেশি কর্মীর সংখ্যা কমে গেছে। সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৭৪ শতাংশ স্কুলে স্পেশাল এডুকেশন, ফিজিক্যাল সায়েন্স, বাইলিঙ্গুয়াল এডুকেশন এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রে শিক্ষক সংকট দেখা দিয়েছে।
সূত্র : এএফপি
মন্তব্য করুন