সোমবার
২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩

পেঁয়াজের ‘শেষকৃত্য’!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৫:৪৯ পিএম
বাংলাদেশে বিক্রি করতে না পেরে ভারতে পেঁয়াজের ‘শেষকৃত্য’ করলো ব্যবসায়ীরা  ¦ ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিভিন্ন স্থানে এখন পেঁয়াজের শেষকৃত্যের আয়োজন চলছে। বিষয়টি যতটা অদ্ভুত শোনায়, ঘটনাটি ঠিক ততটাই বাস্তব। এ বছর বাংলাদেশে রেকর্ড পরিমাণ পেঁয়াজ উৎপাদনের ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা তাদের রপ্তানি বাজার হারিয়েছেন। এর প্রভাব গিয়ে পড়েছে সরাসরি ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে, যেখানে কেজিপ্রতি মাত্র দুই রুপিতেও পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে না।

এই হতাশা ও ক্ষোভ থেকেই মধ্যপ্রদেশের কৃষকেরা অভিনব প্রতিবাদে নেমেছেন—পেঁয়াজের প্রতীকী শেষকৃত্য আয়োজন করে। ইতোমধ্যে এটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে।

মধ্যপ্রদেশের মান্দাসৌর এলাকায় কৃষকেরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ছিল ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানির একটি বড় বাজার। কিন্তু বাংলাদেশে রেকর্ড উৎপাদন এবং সরকার কর্তৃক আমদানি বন্ধের সিদ্ধান্তে পুরো পরিস্থিতিই উল্টে যায়।

ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহ বেড়ে গিয়ে পেঁয়াজের দাম নেমেছে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে—কেজিপ্রতি দুই রুপি। এত কম দামেও যখন কোনো ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না, তখন ক্ষুব্ধ কৃষকেরা রাস্তায় বস্তাভর্তি পেঁয়াজ ফেলে দিচ্ছেন এবং প্রতিবাদ হিসেবে আয়োজন করছেন প্রতীকী শেষকৃত্য।

তাদের অভিযোগ, বাংলাদেশ আমদানি বন্ধ করে দেওয়ায় ভারতীয় বাজারে পেঁয়াজের জোগান বেড়ে গেছে; তাই দাম পড়ে গেছে তলানিতে।

বাংলাদেশে অবশ্য দৃশ্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। এখানে নতুন দেশি পেঁয়াজ বাজারে আসতেই সরবরাহ বেড়েছে এবং বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। কৃষকরা মৌসুমের শুরু থেকেই ভালো দামের প্রত্যাশায় আছেন।

বাংলাদেশে যেসব পেঁয়াজ মৌসুম বাজারকে প্রভাবিত করে— মুড়িকাটা পেঁয়াজ যা রবি মৌসুমের উৎপাদনের প্রায় ৭০% পূরণ করে, খারিফ–১ মৌসুমের উৎপাদন যা সারা বছর বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ বজায় রাখে। ফলে দেশীয় উৎপাদনই এখন অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করছে এবং আমদানির প্রয়োজন আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইকোনমিক টাইমস জানায়, একসময় বাংলাদেশ ভারতের মোট পেঁয়াজ রপ্তানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কিনত। এ বছর সেই দরজা সম্পূর্ণ বন্ধ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ায় স্থানীয় কৃষকদের স্বার্থে আমদানি বন্ধ রাখতেই হয়েছে।

ফলে ভারতের পাইকারি বাজারে জমে আছে বিশাল পরিমাণ পেঁয়াজ, যেগুলোর অনেকটাই পচে যাচ্ছে বিক্রি না হওয়ায়।

যেখানে বাংলাদেশে স্থানীয় উৎপাদনে বাজার স্থিতিশীল থেকে কৃষকেরা আশাবাদী— সেখানে ভারতে কৃষকেরা চরম ক্ষতির মুখে দাঁড়িয়ে প্রতীকী ‘শেষকৃত্যে’ও আশ্রয় নিচ্ছেন।

ভারতীয় ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দাবি, রপ্তানি বন্ধ থাকাই ভারতের বর্তমান পেঁয়াজ সংকটের মূল কারণ। অন্যদিকে বাংলাদেশের কৃষকেরা বলছেন, দেশীয় উৎপাদনই এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাজার স্থিতিশীল রাখছে।

দুই দেশের কৃষি ও বাজার ব্যবস্থাপনার এই বৈপরীত্যই এখন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

যশোর নওয়াপাড়ায় কৃষক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

X