
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত জনপ্রিয়তার সঙ্গে সঙ্গে সাইবার অপরাধীরা নতুন কৌশল ব্যবহার করে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্বখ্যাত সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত এআই সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে পরিচালিত ৯২ হাজারের বেশি সাইবার হামলা শনাক্ত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন ধরনের হামলা সাধারণ ব্যবহারকারীদের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠছে।
গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, হ্যাকাররা জনপ্রিয় এআই সেবা যেমন চ্যাটজিপিটি এবং ক্লদ এআই'র নকল ওয়েবসাইট ও অ্যাপ তৈরি করছে।
এই ভুয়া প্ল্যাটফর্মগুলো দেখতে আসল সফটওয়্যারের মতো হওয়ায় অনেক ব্যবহারকারী সহজেই প্রতারণার শিকার হচ্ছেন। এসব ভুয়া অ্যাপ ডাউনলোড করার পর ডিভাইসে অজান্তেই ম্যালওয়্যার, স্পাইওয়্যার বা ব্যাংকিং ট্রোজান প্রবেশ করছে।
ক্যাসপারস্কির তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে ১৫ হাজারের বেশি ম্যালওয়্যার নমুনা পাওয়া গেছে, যেগুলো বিভিন্ন এআই টুলের ছদ্মবেশে ছড়ানো হচ্ছিল। এসব ক্ষতিকর সফটওয়্যার ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ব্যাংকিং তথ্য সংগ্রহ এবং ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার মতো কাজ করতে সক্ষম।
সাম্প্রতিক গবেষণায় ‘সিলভার ফক্স’ নামে পরিচিত একটি সাইবার অপরাধী চক্রের কার্যক্রমও শনাক্ত করা হয়েছে। এই চক্রটি উইন্ডোজ, ম্যাকওএস এবং লিনাক্স ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে ‘সিলভার ফক্স’ নামে ভুয়া ক্লড এআই সংস্করণ ছড়িয়ে ম্যালওয়্যার সংক্রমণের চেষ্টা করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অফিসের অনুমোদন ছাড়া বিভিন্ন এআই টুল ব্যবহার করার প্রবণতাও ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। ‘শ্যাডো এআই’ নামে পরিচিত এই প্রবণতায় কর্মীরা অনেক সময় অজান্তেই প্রতিষ্ঠানের গোপন তথ্য অনিরাপদ প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করে ফেলেন, যা হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে।
নিরাপদ থাকতে যা করবেন এআই সেবা ব্যবহারের আগে ওয়েবসাইটের ঠিকানা ভালোভাবে যাচাই করুন। শুধুমাত্র অফিশিয়াল ওয়েবসাইট বা অ্যাপ স্টোর থেকে সফটওয়্যার ডাউনলোড করুন। অচেনা এআই অ্যাপ বা বট ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য শুধুমাত্র অনুমোদিত এআই টুলে ব্যবহার করুন। ফোন ও কম্পিউটারে নিয়মিত আপডেটেড অ্যান্টিভাইরাস বা নিরাপত্তা সফটওয়্যার ব্যবহার করুন।
এআই প্রযুক্তি যত দ্রুত দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত হচ্ছে, ততই ভুয়া এআই সেবার মাধ্যমে সাইবার হামলার ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সচেতনতা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন