
মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক অনন্য ও স্মরণীয় মুহূর্তের সাক্ষী হতে যাচ্ছে বিশ্ববাসী। আগামী ২০২৭ সালের ২ আগস্ট দেখা যাবে এই শতাব্দীর দীর্ঘতম পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, এই গ্রহণ টানা ৬ মিনিট ২৩ সেকেন্ড স্থায়ী হবে, যা ১৯৯১ থেকে ২১৯৪ সালের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘতম সূর্যগ্রহণ হিসেবে রেকর্ড গড়বে।
সূর্যগ্রহণ একটি স্বাভাবিক মহাজাগতিক প্রক্রিয়া। যখন চাঁদ তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে পৃথিবী ও সূর্যের ঠিক মাঝখানে অবস্থান নেয়, তখন সূর্যের আলো পৃথিবীতে পৌঁছাতে বাধা পায়। ফলে দিনের বেলায় আকাশ সাময়িকভাবে অন্ধকার হয়ে যাবে।
দেখার সেরা স্থান যেখানে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার (NASA) তথ্য অনুযায়ী, এই দীর্ঘতম গ্রহণের পথ শুরু হবে মরক্কো ও দক্ষিণ স্পেন থেকে। এরপর এটি আলজেরিয়া, তিউনিসিয়া, মিশর এবং সৌদি আরবের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। তবে গ্রহণের পূর্ণ মহিমা এবং সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব দেখা যাবে মিশরের লাক্সর এবং আসওয়ান অঞ্চলে। প্রাচীন স্থাপত্য ও মন্দিরের জন্য বিখ্যাত এই অঞ্চলে আকাশের অন্ধকার হবে সবথেকে দীর্ঘ ও গভীর।
পৃথিবীর বাইরেও কি গ্রহণ হয়? অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, সূর্যগ্রহণ কি শুধু পৃথিবীতেই সীমাবদ্ধ? বিজ্ঞানীদের মতে, এটি গ্রহ ও উপগ্রহের অবস্থানের ওপর নির্ভরশীল একটি প্রক্রিয়া। ফলে পৃথিবী ছাড়াও অন্য গ্রহেও এটি সম্ভব। উদাহরণস্বরূপ, গত বছর মঙ্গল গ্রহ এবং চাঁদেও সূর্যগ্রহণের ঘটনা পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে।
শতাব্দীর উল্লেখযোগ্য কিছু দীর্ঘ সূর্যগ্রহণ এই শতাব্দীতে আরও বেশ কিছু দীর্ঘস্থায়ী সূর্যগ্রহণের তালিকা দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা-
৩০ এপ্রিল ২০৬০: ৫ মিনিট ১২ সেকেন্ড।
২৪ আগস্ট ২০৬৩: ৫ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড।
১১ মে ২০৮১: ৫ মিনিট ৪০ সেকেন্ড।
৩ সেপ্টেম্বর ২০৮১: ৫ মিনিট ৩০ সেকেন্ড।
২২ মে ২০৯৬: ৬ মিনিট ৬ সেকেন্ড।
সূর্যগ্রহণ দেখার সময় কোনোভাবেই খালি চোখে সূর্যের দিকে তাকানো উচিত নয়। সূর্যের তীব্র অতিবেগুনি রশ্মি চোখের রেটিনার স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে। তাই নিরাপদ পর্যবেক্ষণের জন্য বিশেষ সৌর চশমা (Solar Filter Glasses) বা টেলিস্কোপে বিশেষ ফিল্টার ব্যবহার করুন। সাধারণ সানগ্লাস ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন
২০২৭ সালের এই সূর্যগ্রহণ হবে আধুনিক জ্যোতির্বিজ্ঞানের অন্যতম বিস্ময়কর ঘটনা। বিজ্ঞানী, গবেষক এবং সাধারণ মানুষ—সবাই একসঙ্গে উপভোগ করবে মহাকাশের এই বিরল প্রদর্শনী, যা ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
মন্তব্য করুন