
প্রযুক্তি দুনিয়ায় সাধারণ নিয়ম হলো—রিফারবিশড বা ব্যবহৃত ফোনের দাম নতুন ফোনের তুলনায় কম হবে। কিন্তু এবার সেই নিয়ম ভেঙে দিয়েছে স্যামসাং।
কোম্পানির অফিসিয়াল ‘রি-নিউড’ (Re-Newed) প্রোগ্রামের আওতায় বিক্রি হওয়া স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭ ও স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৭ এই দুটি জনপ্রিয় ফোল্ডেবল স্মার্টফোনের রিফারবিশড ভার্সনের দাম নতুন ফোনের চেয়েও বেশি রাখা হয়েছে—যা প্রযুক্তি বিশ্বে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।
স্যামসাংয়ের ঘোষণা অনুযায়ী, গত বছরের জনপ্রিয় ফোল্ডেবল ফোন গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭-এর রিফারবিশড মডেলের দাম শুরু হচ্ছে ১,৬৯৯ ডলার থেকে। অন্যদিকে, আশ্চর্যজনকভাবে স্যামসাংয়ের ওয়েবসাইটেই বর্তমানে একেবারে নতুন একটি গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১,৫৯৯ ডলারে। অর্থাৎ, নতুনের চেয়ে পুরনো ফোনের জন্য গ্রাহককে ১০০ ডলার বেশি গুনতে হচ্ছে। একই চিত্র দেখা গেছে গ্যালাক্সি জেড ফ্লিপ ৭-এর ক্ষেত্রেও। যেখানে রিফারবিশড ফোনের দাম ৯৩৯ ডলার, সেখানে নতুন ফোন মিলছে মাত্র ৮৯৯ ডলারে।
কেন এই বৈপরীত্য? বাজার বিশ্লেষকদের মতে, স্যামসাং বর্তমানে তাদের নতুন ফোল্ডেবল ফোনের ওপর সাময়িকভাবে বড় ধরনের ছাড় দিচ্ছে। অন্যদিকে, রিফারবিশড ফোনের দাম একটি নির্দিষ্ট ছকে নির্ধারিত থাকে যা ঘনঘন পরিবর্তন করা হয় না। এই সাময়িক মূল্যহ্রাসের কারণেই নতুন ফোনের দাম রিফারবিশড বা পুরনো ফোনের চেয়ে নিচে নেমে এসেছে। তবে এই ছাড় শেষ হয়ে গেলে নতুনের দাম আবার আগের মতো বেড়ে যাবে।
ফোল্ডেবল ফোনের জনপ্রিয়তা গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড ৭ এবং ফ্লিপ ৭—উভয় ফোনই গত এক বছরে বিশ্ববাজারে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। যারা ফোল্ডেবল ফোনের অভিজ্ঞতা নিতে চান, তাদের জন্য এই মুহূর্তে কেনাটা বেশ লাভজনক। কারণ লঞ্চিং প্রাইসের তুলনায় নতুন ফোনটি বর্তমানে বেশ সস্তায় পাওয়া যাচ্ছে। তবে রিফারবিশড ফোনের দাম কেন নতুনের চেয়ে বেশি, সেই বিষয়টি নিয়ে স্যামসাংয়ের পক্ষ থেকে এখনও কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন