
ভারতের জ্বালানি খাতে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় সড়ক ও পরিবহনমন্ত্রী নীতীন গড়করি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী ভবিষ্যতে পেট্রোলের উপর নির্ভরতা কমিয়ে ধাপে ধাপে ইথানলভিত্তিক জ্বালানি ব্যবস্থার দিকে অগ্রসর হবে দেশটি।
আসছে নতুন জ্বালানি E85 বর্তমানে ভারতে পেট্রোল পাম্পগুলোতে E20 জ্বালানি পাওয়া যায়, যেখানে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানো থাকে। তবে নতুন পরিকল্পনায় বাজারে আসছে E85 জ্বালানি, যেখানে থাকবে: ৮৫% ইথানল, ১৫% পেট্রোল।
সরকারের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলো এই পরিকল্পনায় ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে এবং খুব শিগগিরই এটি বাস্তবায়নের পথে যাবে।
কেন এই বড় পরিবর্তন? নীতীন গড়করি জানিয়েছেন, ভারত বছরে প্রায় ২২ লক্ষ কোটি টাকার জীবাশ্ম জ্বালানি আমদানি করে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করে। পাশাপাশি এই জ্বালানি ব্যবহারের কারণে পরিবেশ দূষণও বাড়ছে। বিকল্প জ্বালানি হিসেবে ইথানলের উৎপাদন বাড়াতে পেট্রোলিয়াম সংস্থাগুলোর জন্য নতুন নিয়মের খসড়া তৈরি করছে সরকার।
পুরনো গাড়ির ভবিষ্যৎ কী? E85 জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ ইঞ্জিনে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। নতুন এই জ্বালানিতে গাড়ি চালাতে হলে ইঞ্জিনে বিশেষ পরিবর্তন বা 'ফ্লেক্স-ফুয়েল' প্রযুক্তির প্রয়োজন হবে।
ইঞ্জিনে বদল: বর্তমানের পুরনো গাড়ি বা বাইকগুলো সরাসরি এই উচ্চ মাত্রার ইথানলে চালানো সম্ভব হবে না।
প্রস্তুতকারকদের সাথে আলোচনা: গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরকার এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে, যাতে ভবিষ্যতে তারা ইথানল-বান্ধব ইঞ্জিন উৎপাদনে জোর দেয়।
যদিও ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি নিয়ে যন্ত্রাংশের ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন অনেক চালক, তবে সরকারের দাবি—সঠিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব এবং এটি দীর্ঘমেয়াদে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব হবে।
মন্তব্য করুন