
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ঘোষণা করেছে যে, সাধারণ ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্মার্টফোন পৌঁছে দিতে আমদানিকৃত মোবাইল ফোনের কাস্টমস ডিউটি একধাক্কায় কমিয়ে ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এনবিআরের এই সিদ্ধান্তের ফলে দেশে বাজারে আমদানিকৃত স্মার্টফোনের দাম উল্লেখযোগ্য হারে কমবে। এনবিআরের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আল আমিন শেখ নিশ্চিত করেছেন যে, সরকারের এই জনবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে নাগরিকরা আরও সাশ্রয়ী দামে ডিজিটাল সেবা উপভোগ করতে পারবে।
নতুন শুল্ক কাঠামোর হিসাব অনুযায়ী, ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের প্রতিটি আমদানিকৃত স্মার্টফোনের দাম প্রায় ৫,৫০০ টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। মূলত এই পদক্ষেপের মাধ্যমে মোবাইল ফোন আমদানিতে শুল্কের বোঝা ৬০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর ফলে বৈধ পথে মোবাইল ফোন আমদানিতে ব্যবসায়ীরা উৎসাহিত হবেন এবং বাজারে অবৈধ হ্যান্ডসেটের প্রবেশও কমবে বলে আশা করছে সরকার।
এনবিআরের প্রজ্ঞাপনে দেশীয় মোবাইল সংযোজন শিল্পকেও সুরক্ষার আওতায় রাখা হয়েছে। দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে অসম প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সেজন্য মোবাইল ফোন সংযোজনের কাঁচামাল বা উপকরণ আমদানিতেও কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে দেশীয় শিল্পের উপকরণ আমদানি শুল্ক প্রায় ৫০ শতাংশ কমেছে এবং ৩০ হাজার টাকার বেশি মূল্যের দেশীয় সংযোজিত ফোনের দাম প্রায় ১,৫০০ টাকা কমবে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, এই বড় ধরনের শুল্ক সুবিধা দেওয়ার মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল প্রযুক্তির প্রসার ত্বরান্বিত করা। সরকার আশা করছে, মোবাইল ফোনের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে থাকলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও ব্যবসা-বাণিজ্যে ইন্টারনেট ব্যবহারের হার বৃদ্ধি পাবে। এনবিআর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যে, সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতেও এই ধরনের কর ও শুল্ক ছাড় সংক্রান্ত উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।
মন্তব্য করুন