
চাঁদ যখন পৃথিবীর সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে চলে আসে, তখন সেই সময়ের পূর্ণিমার চাঁদকে সুপারমুন বলা হয়। এ সময় খালি চোখেই চাঁদকে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় অনেক বড় ও প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখা যায়।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) আকাশে দেখা যাবে বছরের প্রথম পূর্ণিমা এবং একই সঙ্গে বছরের শেষ সুপারমুন। গত বছরের অক্টোবর মাস থেকে টানা যে সুপারমুন দেখার ধারা শুরু হয়েছিল, জানুয়ারির এই পূর্ণিমাই তার শেষ অধ্যায়।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল প্রায় ১০টার দিকে চাঁদ তার পূর্ণতম অবস্থায় পৌঁছাবে। তবে এর আগের রাত থেকেই আকাশে চাঁদটিকে একটি উজ্জ্বল ও বড় গোলকের মতো দেখা যাবে, যা সুপারমুনের বৈশিষ্ট্য।
জানুয়ারির এই পূর্ণিমাকে ঐতিহ্যগতভাবে ‘উলফ মুন’, ‘কোল্ড মুন’ কিংবা ‘হার্ড মুন’ নামেও ডাকা হয়। যদিও এসব নাম বহু পুরোনো, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতেই এগুলো বেশি পরিচিতি পেয়েছে।
সুপারমুন দেখার জন্য বিশেষ কোনো টেলিস্কোপ বা যন্ত্রের প্রয়োজন নেই। বরং জনবহুল বা শহরের ব্যস্ত এলাকা থেকেও এটি সহজেই উপভোগ করা যায়। বিশেষ করে দিগন্তরেখায় থাকা ভবন, গাছ বা পাহাড়ের পাশ দিয়ে চাঁদ ওঠার দৃশ্য সুপারমুনের বিশালতা ও নাটকীয়তা আরও স্পষ্ট করে তোলে।
জানুয়ারির এই চাঁদটি বছরের অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় আকাশে তুলনামূলকভাবে অনেক উঁচুতে অবস্থান করবে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদ দেখা সম্ভব হবে। তবে চাঁদ যখন অনেক ওপরে থাকে, তখন আশপাশের কোনো বস্তুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না বলে এটি কিছুটা কম বিশাল মনে হতে পারে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সুপারমুনের সময়ই আকাশে ‘কোয়াড্রান্টিড’ উল্কাবৃষ্টি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে পূর্ণিমার চাঁদের তীব্র আলোয় উল্কাবৃষ্টি দেখা কিছুটা কঠিন হতে পারে। কারণ সুপারমুনের আলো পুরো আকাশ উজ্জ্বল করে রাখায় ছোট ও আবছা উল্কার ঝলক সহজে চোখে পড়বে না।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চাঁদ যখন পৃথিবী থেকে গড় দূরত্বের চেয়ে অনেক কাছে চলে আসে, তখনই সুপারমুন ঘটে। এ সময় চাঁদকে সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ১৪ শতাংশ বড় এবং ৩০ শতাংশ বেশি উজ্জ্বল দেখায়।
মন্তব্য করুন