সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

ওজন বাড়ার সাথে ডিম খাওয়ার সম্পর্ক কি?

কাগজ ডেস্ক
প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১১:৫৮ এএম
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

অনেকেই বলে ডিম খাই না, কুসুমসহ ডিম খেলে মোটা হয়ে যাব, কোলেস্টেরল বেড়ে যাবে। তাদের ধারণা ডিম খেলে ওজন আরও বেড়ে যাবে। সাথে বাড়বে কোলেস্টেরল।

এমন প্রশ্ন অনেকেই করে থাকেন। কারণ ডিমে রয়েছে ক্যালোরি। তাই তাদের মনে হয় ডিম খেলেই ওজন বাড়বে। তাহলে উপায়! ডিমের সঙ্গে বন্ধুত্ব ভাঙুন, আর মেদহীন শরীর পান! এইভাবেই ডিমকে দূরে ঠেলে দিয়ে একদল জিরো ফিগারের স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু লাখ টাকার প্রশ্নটা হল, এই ধারণা কি আদৌ ঠিক? সত্যিই কি ডিম খাওয়ার সঙ্গে মোটা হয়ে যাওয়ার সরাসরি যোগ রয়েছে?

এটি কি আসলেই ঠিক যে ডিম বা ডিমের কুসুম ওজন বাড়িয়ে দেয় কিংবা কোলেস্টেরল বাড়ায়? উত্তরে বলবো ‘না’। বহুদিন পর্যন্ত ডিমকে ‘শরীরের শত্রু’ বলে প্রচার করা হয়েছে। একসময় মনে করা হতো, ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল বাড়ে। কিন্তু আধুনিক গবেষণা প্রমাণ করেছে, এ ধারণা ভিত্তিহীন। বরং ডিমের কুসুম খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে সাহায্য করে।

কোলেস্টেরলের সমস্যার কথা যদি ভাবেন, ডিম সেখানে কোন ক্ষতির কারণ নয়। বরং যে ক্ষতিকর তেল বা স্যাচুরেটেড ফ্যাট দিয়ে ডিম রান্না করছেন সেটা সমস্যা কারণ হতে পারে।

পুষ্টিগুনে ভরপুর ও প্রোটিনের সবচেয়ে সস্তা উৎস হল ডিম। প্রতিদিন সকালের নাস্তায় ডিম খাওয়া ভাল। এটি সত্য যে ডিমের কুসুমে কোলেস্টেরল আছে। কিন্তু রক্তের কোলেস্টেরলের উপর এর সরাসরি কোন প্রভাব নেই। ডিমের কুসুম আমাদের রক্তে গুড কোলেস্টেরল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন যা আমাদের মস্তিষ্ক এবং পেশী গঠনে সাহায্য করে। একই সাথে ডিমে আছে এমন কিছু অ্যামিনো এসিড যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়ার সাথে সাথে মানসিক স্থিরতা বাড়ায়।

সব ডিমেই যে একই পরিমাণ ক্যালোরি থাকে, তা নয়। বড় মাপের ডিমে প্রায় ৯০ ক্যালোরি থাকে। যেখানে মাঝারি বা ছোট মাপের ডিমে ক্যালোরির মাত্রা হয় প্রায় ৭০। তাই ডিম খেলেই শরীরে ক্যালোরি মাত্রা বৃদ্ধি পাবে, এমনটা ভেবে নেয়ার কোনও কারণ নেই।

প্রসঙ্গত, একথা ঠিক যে শরীরে ক্যালোরির মাত্রা যত বৃদ্ধি পাবে, তত ওজন বাড়ার আশঙ্কা বাড়বে। তাই তো একজন ডায়াটেশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে জেনে নিতে আপনি দিনে যে পরিমাণ পরিশ্রম করেন সেই অনুপাতে কত পরিমাণ ক্যালোরি খেলে আপনার ওজন বাড়বে না। সেই মতো খাবার খেলেই দেখবেন ওজন বাড়বে না।

ধরুন আপনাকে দিনে ২০০ ক্যালোরি খেতে হবে। একটা ডিম সকালে খাওয়া মানে শরীরে ৭০ ক্যালোরি প্রবেশ করবে। তার মানে সারা দিনে আপনি আর ১৭০ ক্যালোরি খেতে পারবেন। তার বেশি নয়।

ডিম খেলে কি কোলেস্টেরল বাড়ে?

একেবারেই না। একথা ঠিক যে ডিমে কোলেস্টেরল রয়েছে, কিন্তু তা ভাল কোলেস্টেরল, যা শরীরের গঠনে সাহায্য করে। এখানেই শেষ নয়, ভাল কোলেস্টেরলের পাশাপাশি ডিমে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ, বি, ই, ডি এবং কে। রেয়েছে জিঙ্ক, সোডিয়াম, পটাশিয়াম, আয়রণ এবং ক্যালসিয়াম। তাই সব শেষে একথা বলতেই হয় যে ডিম খাওয়ার সঙ্গে মোটা হওয়ার সরাসরি কোনও সম্পর্কে নেই। তবে শরীরের ভাল-মন্দের সঙ্গে গভীর যোগ রয়েছে।

সেদ্ধ ডিম

পোচ খেলে শরীরে প্রায় ৭২ ক্যালোরি প্রবেশ করে। যেখানে সেদ্ধ ডিম খেলে প্রায় ৭৮ ক্যালোরি মজুত হয় দেহে। তাই আপনি যদি শরীরে কম পরিমাণ ক্যালোরি প্রবেশ করাতে চান, তাহলে সেদ্ধ ডিম নয়, খেতে হবে পোচ। তাহলেই আর মোটা হয়ে যাওয়ার চিন্ত থাকবে না।

ডিমের ভুনা

প্রতিদিন সকালে পাঁউরুটির সঙ্গে ডিমে ভিজিয়ে না খেলে মন ভরে না। এদিকে ভাবছেন এমন খাবার খাওয়ার কারণে ওজন বাড়বে কিনা? তাহলে বলবো, নিশ্চিন্তে ডিমের ভুজিয়ে খেতে থাকুন। এমন খাবারের সঙ্গে ওজন বাড়ার কোনও সম্পর্ক নেই। কারণ এক প্লেট ডিমের ভুজ্জিতে ৯০-১০০ ক্যালোরি থাকে। এই পরিমাণ ক্যালোরি শরীরে প্রবেশ করার পর বাকি দিনে আর বেশি ক্যালোরিযুক্ত খাবার খাবেন না। তাহলেই আর মোটা হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। মোট কথা হিসেবে করে ক্যালোরি খেতে হবে। প্রয়োজনের বেশি খেলেই শরীরের পরিধি বাড়তে শুরু করবে।

ডিমের কুসুম এবং সাদা অংশ

সাধারণত ডিমের কুসুমে ৫৫ ক্যালোরি থাকে, যেখানে সাদা অংশ খেলে শরীরে মাত্র ১৭ ক্যালোরির প্রবেশ ঘটে।

প্রসঙ্গত, ডিমের কুসুমে প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন থাকে, আর সাদা অংশে থাকে ভিটামিন এবং খনিজ। তাই তো পুরো ডিম খেতে হবে। শুধু কুসুম বা সাদা অংশ খে কিন্তু পুষ্টির অভাব দেখা দেবে।

প্রতিদিন ডিম খেলে শরীরে প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যামাইনো অ্যাসিডের ঘাটতি দূর হয়। ফলে নানাবিধ রোগের হাত থেকে শরীর রক্ষা পায়। সেই সঙ্গে মহিলাদের অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কমে। কারণ ডিমে উপস্থিত বেশ কিছু পুষ্টিকর উপাদান হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে।

শরীর গঠনে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিডের ভূমিকা যে কতটা তা নিশ্চয় কারও অজানা নেই। এই বিশেষ ধরনের ফ্যাটি অ্যাসিডটি মাছের পাশাপাশি ডিমেও প্রচুর পরিমাণে থাকে। তাই তো যাদের মাছ খেতে ইচ্ছা করে না, তাদের প্রতিদিন ডিম খাওয়া উচিত। এমনটা করলে কথায় কথায় শরীর খারাপ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা একেবারে কমে যায়।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

কোরআনের আলোকে বিপর্যয়ের কারণ ও শিক্ষা

সতর্ক থাকুন কুম্ভ, স্থির থাকুন কন্যা

মার্কিন সরকারি ডিভাইসে আবারও টিকটক ব্যবহারের অনুমতি

২০ জুলাই: ইতিহাসে এই দিনে কী ঘটেছিল?

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদীর পানি

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে অতিরিক্ত সময়ের গোলে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ইরানে বড় হামলা চালাতে ইসরায়েলে রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নুসরাত ফারিয়ার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ! গোলশূন্য বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

মাঝমাঠের তীব্র লড়াইয়ে ম্যাচ এখনো গোলশূন্য

বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াই, স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল তুলছে আর্জেন্টিনা

কলা ছাড়াও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যেসব ফল ও সবজি খাবেন

যশোর সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতি  আজিমুল সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত

তৌহিদী জনতার বাধায় যশোর ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখানো বন্ধ

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

X