
বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। ৪০ শয্যার বিপরীতে বর্তমানে ৮০ জনেরও বেশি শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে হামের উপসর্গ নিয়ে চারজন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপে চিকিৎসক ও নার্সদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমি রোগের প্রকোপ দেখা দেওয়ায় প্রতিদিনই নতুন নতুন শিশু ভর্তি হচ্ছে। কিন্তু শয্যা সংকটের কারণে অনেক শিশুকে মেঝেতে রেখেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শিশুদের সঙ্গে থাকা অভিভাবকদের ভিড়ও কয়েকগুণ বেড়েছে। এতে করে ওয়ার্ডের পরিবেশ আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠেছে এবং স্বাভাবিক চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রোগীর স্বজনরা জানান, চিকিৎসা সেবা সন্তোষজনক হলেও রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত চাপের মধ্যে কাজ করতে হচ্ছে। সব রোগীর জন্য খাবারের ব্যবস্থা না থাকায় অনেক পরিবারকে বাইরে থেকে খাবার সংগ্রহ করতে হচ্ছে। তবে অতিরিক্ত ভিড়ের মধ্যেও চিকিৎসক ও নার্সরা আন্তরিকভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন বলে তারা জানান।
শিশু ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র নার্সরা বলেন, বর্তমানে শিশু রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তারপরও চিকিৎসক ও নার্সরা সম্মিলিতভাবে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক ডা. অসীম কুমার সমাদ্দার বলেন, বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে চারজন শিশু হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এছাড়া মৌসুমি রোগের কারণে শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে। যেখানে ৪০টি শয্যা রয়েছে, সেখানে বর্তমানে ৮৪ জন শিশু ভর্তি আছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে এবং শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া খাবারের বিষয়ে বলেন, প্রতিদিন ২৫০ জনের খাবার তৈরি হয়। আমাদের বেড রয়েছে ৩শ টির মত। এই কারণে অনেক রোগীরা খাবার পাচ্ছে না।
মন্তব্য করুন