
মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ কিডনি। শরীর থেকে বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণ, রক্ত পরিশোধন এবং তরল ভারসাম্য বজায় রাখতে কিডনির ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কিডনি রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। অনিয়মিত জীবনযাপন ও ভুল খাদ্যাভ্যাসই এর অন্যতম প্রধান কারণ।
তবে সুসংবাদ হলো—সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে কিডনি সুস্থ রাখা সম্ভব। নিচে এমন কিছু খাবারের তালিকা দেওয়া হলো, যা কিডনির কার্যক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
বাধাকপি বাধাকপিতে রয়েছে ফাইটোকেমিক্যালস, ভিটামিন বি৬, সি ও কে, আঁশ এবং ফলিক অ্যাসিড। এগুলো কিডনির ক্ষতিগ্রস্ত কোষ মেরামত করে এবং ইউরিনারি সিস্টেম সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
ডিমের সাদা অংশ ডিমের সাদা অংশে রয়েছে প্রচুর পরিমাণের প্রোটিন। এতে আছে অ্যামাইনো এসিড যা কিডনির কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার জন্য জরুরি। তবে কিডনির রোগ হলে ডিমের কুসুম না খাওয়াই ভালো। তাই বিশেষজ্ঞরা কিডনি রোগে আক্রান্তদেরকে ডিমের সাদা অংশ খাওয়ার পরামর্শ দেন। রসুন রসুনে আছে পঁচনরোধী এবং জমাটরোধী উপাদান যা কার্যকরভাবে কিডনি রোগ প্রতিরোধ করে। রসুন কিডনিকে ক্ষতিকর ধাতব পদার্থের সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। আরো রয়েছে রসুনে রয়েছে স্বাস্থ্যকর পুষ্টি উপাদান ও মিনারেল, যেমন সোডিয়াম, ফসফরাস ও পটাশিয়াম। এটি অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি খাদ্য হিসেবেও বেশ পরিচিত। অলিভ অয়েল অলিভ অয়েল হার্টের জন্য ভালো এটা আমাদের সবারই জানা। তবে সেটি যে কিডনির জন্যও উপকারী তা জানেন কি? এতে আছে প্রচুর পরিমাণে প্রদাহরোধী ফ্যাটি এসিড যা জারণ কমিয়ে কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে। সালাদে বা রান্নায় এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল ব্যবহার করতে পারেন। তা ছাড়া ক্যানসার ও ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায় অলিভ অয়েল। মাছ মাছে আছে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড যা দেহের প্রদাহ কমায় এবং কিডনিকে সুরক্ষা দেয়। যাদের কিডনিতে সমস্যা হচ্ছে তাদের বেশি বেশি মাছ খাওয়া উচিত। বেরি বেরিতে আছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন সি, খাদ্য আঁশ এবং ফোলেট। স্ট্রবেরি, ক্র্যানবেরি, র্যাস্পবেরি এবং ব্লুবেরি কিডনির জন্য বেশ উপকারী বলে বিবেচিত হয়। বেরিতে আছে প্রদাহরোধী এবং পঁচনরোধী উপাদান এবং মূত্রাশয়ের কার্যক্রমেরও উন্নতি ঘটায়। আপেল আপেল খুবই কার্যকর কিডনির সুস্বাস্থ্যের জন্য। এটি কোষ্ঠ্য কাঠিন্য দূর করে, হৃদরোগ প্রতিরোধ করে এবং দৃষ্টিশক্তি বাড়ায়। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বা পঁচনরোধী উপাদান এবং ভিটামিন থাকায় আপেল কিডনির স্বাস্থ্যও ভালো রাখে। এছাড়া রক্তে কোলোস্টেরলের মাত্রা ঠিক রাখতে এবং পেশাব পরিষ্কার রাখতেও বেশ কার্যকর আপেল। তরমুজ তরমুজে আছে লাইকোপিন নামক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ক্ষতিকর ফ্রি-অক্সিজেন রেডিকেল থেকে সুরক্ষা দেয়। তরমুজ কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। নিয়মিত এবং পরিমিত খেলে কিডনিকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দেবে। নিয়মিত এবং পরিমিত খেলে কিডনিকে ক্ষতির হাত থেকে সুরক্ষা দেবে। শসা শসায় আছে ৯৬ শতাংশ পানি। গবেষণা বলছে, নিয়মিত শসা খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমে এবং তা কিডনির পক্ষে যথেষ্ট উপকারী। ক্ষুদ্র পাথর দূর করতেও শসা কার্যকর। লেবুর রস লেবুতে আছে এসিড উপাদান যা কিডনিতে জমা হওয়া পাথর ভাঙ্গতে বেশ কার্যকর। লেবুতে যে সাইট্রাস উপাদান আছে তা কিডনিতে থাকা ক্রিস্টালদের পরস্পরের জোড়া লাগতে বাধা দেয়। পানি শরীরের সার্বিক সুরক্ষায় পানি অপরিহার্য উপাদান। এটি শরীরের যেকোনো প্রত্যঙ্গের জন্যই উপকারী। কিডনির কার্যক্রম চলা কঠিন পানি ছাড়া। কিডনি ভালোভাবে কাজ করতে প্রতিদিন অন্তত তিন লিটার পানি খাওয়া প্রয়োজন। বাদাম বাদামজাতীয় খাবার কিডনি স্টোনের আশঙ্কা কমানোর পাশাপাশি শরীরের এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির কর্মক্ষমতা বাড়াতেও সাহায্য করে। বিশেষত কিডনি বিনস বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে।
মন্তব্য করুন