
অন্তত ৫০/৬০ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয় ওষুধী গাছ অর্জুন। পাতাগুলোর আকার একটু বড় হলেও মানুষের জিভের মত চিকন পাতার ধারগুলি খুব সরু দাঁত করাতের মত কিন্তু মাংসল নয়, শক্ত। সমগ্র উপমহাদেশে কমবেশী এ গাছ দেখা যায়। ভেষজ চিকিৎসায় অর্জুন অত্যান্ত শক্তিশালী গাছ হিসেবে ব্যবহৃত।
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদরোগ উপশমে অর্জুন ছাল ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে বাজারে এর অনেক ওষুধ পাওয়া যায়। অর্জুন ছাল ভালোভাবে পেষণ করে চিনি ও গরুর দুধের সাথে প্রত্যেক দিন সকালে খেলে হৃদরোগ এবং ধড়ফড় কমে যায়। রক্তে নিম্ন চাপ থাকলে অর্জুনের ছালের রস সেবনে উপকার হয়। রক্তক্ষরণে ৫-৬ গ্রাম ছাল রাতে পানি ভিজিয়ে রেখে সকালে ছেকে পানি খেলে আরোগ্য হয়।
শ্বেত বা রক্ত প্রদরে ছাল ভিজানো পানি আধ চামচ কাচা হলুদের রস মিশিয়ে খেলে রোগের উপশম হয়। ক্ষয়কাশে অর্জুনের ছালের গুড়া বাসক পাতার রসে ভিজিয়ে ঘি মধু মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। কাচা পাতার রস সেবনে আমাশয় রোগ ভাল হয়।
হৃদপিন্ডের দুর্বলতা ও সাধারণ দুর্বলতায় ৩-৪ গ্রাম অর্জুন ছাল চূর্ন্য প্রত্যহ দুবার এক গ্লাস পারিমাণ দুধসহ সেব্য। এক মাস নিয়মিত সেবন করে যাওয়া আবশ্যক।
কাচা অর্জুনের ছাল ৫ গ্রাম পরিমান নিয়ে ভালোভাবে পিষে ঠান্ডা পানিসহ দুবার খেলে রক্ত আমাশয়ে বিশেষ উপকারী। বিচূর্ণ ফল রক্তচাপ কমায়, মূত্রবর্ধক হিসেবে কাজ করে এবং লিভার সিরোসিস টনিক হিসেবে কাজ করে।
এর ছাল মুখ জিহ্বা ও মাড়ির প্রদাহের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, এটি মাড়ির রক্তপাত বন্ধ করে। এটি সংকোচন ও জ্বর রোধক হিসেবেও কাজ করে।
মন্তব্য করুন