
সর্পগন্ধা আমাদের দেশের একটি সুপরিচিত ভেষজ উদ্ভিদ। গ্রামবাংলার অনেক এলাকায় এই গাছ দেখা যায়। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলে, যেমন খাসিয়া পাহাড়ের পাদদেশ, তামাবিলের জঙ্গল, রাঙামাটি ও বান্দরবান এলাকায় সর্পগন্ধা গাছ স্বাভাবিকভাবে জন্মাতে দেখা যায়।
এই গাছটি সাধারণত ঝোপাকৃতির হয়ে থাকে। সর্পগন্ধা গাছের শিকড় ও পাতা ভেষজ ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় আয়ুর্বেদিক ও লোকজ চিকিৎসায় এর ব্যবহার রয়েছে।
ভেষজ বিশেষজ্ঞদের মতে, সর্পগন্ধা গাছের শিকড়ে এমন কিছু কার্যকর উপাদান রয়েছে যা শরীরের নানা সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে।
সর্পগন্ধার উপকারিতা ভেষজ চিকিৎসকরা বলছেন, সর্পগন্ধা শিকড় রক্তচাপ কমায়, স্নায়ুচাপ কমায়, স্নায়ুতন্ত্র শিথিল করে অল্প পরিমাণ খেলে উত্তেজনা প্রশমিত হয় ও ঘুম ভাল হয়। বিষধর সাপে কামড়ালে হৃদযন্ত্রে তীব্র বায়ুর চাপ সৃষ্টি হয়। যার ফলে রক্তের তঞ্চন ক্রিয়া অসম্ভব বেড়ে যায় এবং একসময় হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে সর্পগন্ধা বায়ুচাপ দমন করে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে চিকিৎসকরা চিকিৎসা করার সময় পান।
বিভিন্ন প্রকার চর্মরোগ নিরাময়েও এর ঔষধ কার্যকর। বার্ধক্যজনিত রোগও এটি দ্বারা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হয়োছে। যাদের ঘুমের সমস্যা রয়েছে তারা রাতে ঘুমানোর আগে ২৫ গ্রাম সর্পগন্ধার শিকড়ের গুড়া খেতে হবে।
সর্পগন্ধা পাতার নির্যাস চোখের ছানি কাটাতে সাহায্য করে। এছাড়াও এটি যে কোন বিষাক্ত পদার্থ কিংবা যে কোন ধরনের বিষক্রিয়া থেকে রক্ষায় সর্পগন্ধা গাছের এ্যালকোলয়েড সমূহ এন্টিডোট হিসেবে কাজ করে।
বিভিন্ন সরীসৃপ বা পোকামাকড় কামড়ালে ক্ষত ও জ্বালা পোড়া থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রতিষেধক হিসেবে এটি ব্যবহার করা হয়।
জ্বর, ঠান্ডা কাশি প্রতিষেধক হিসেবে সর্পগন্ধা ব্যবহার করা হয়। দৈনিক দূর্বলতা ও মানসিক অবসাদ জনিত রোগেও এর মূলের চুর্ণ ব্যবহৃত হয়।
মন্তব্য করুন