
গ্রীষ্মকালীন ফলের মধ্যে ফুটি বা কাকুড় একটি সুপরিচিত ও পুষ্টিকর ফল। এটি বর্ষজীবী লতাজাতীয় গাছের ফল, যা মাটিতে লতিয়ে বেড়ে ওঠে। বাংলাদেশে কাঁচা অবস্থায় একে কাকুড় এবং পাকা হলে ফুটি বলা হয়। অনেক এলাকায় এটি বাঙ্গি নামেও পরিচিত।
হালকা সুগন্ধযুক্ত ও মিষ্টি স্বাদের এই ফল শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। গরমের দিনে শরীর ঠান্ডা রাখা থেকে শুরু করে ত্বক ও চুলের যত্ন—বিভিন্ন দিক থেকে কাকুড় মানুষের জন্য উপকারী।
পুষ্টিগুন ফুটিতে রয়েছে উচ্চমাত্রার বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি। বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন সি শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে সাহায্য করে। এতে চিনির পরিমাণ রয়েছে খুবই কম, তাই ডায়াবেটিস রোগীরাও খেতে পারেন সাচ্ছন্দে।
বয়সের ছাপ দূর করে কাকুড় ত্বকের বয়সের ছাপ দূর করে থাকে। এটি ত্বকের কোষ নষ্ট হয়ে গেলে তা ঠিক করতে সাহায্য করে। কাকুড় প্রোটিন কম্পাউন্ড ত্বককে করে সুন্দর। কাকুড় থেতো করে মধুর সাথে মিশিয়ে ত্বকে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিন। এভাবে নিয়মিত ব্যবহার করুন।
ব্রন, অ্যকজিমা দূর করে ব্রণের সমস্যা বা একজিমার সমস্যায় ভুগলে প্রতিদিন এক গ্লাস কাকুড়ের শরবত খান। এতে করে ত্বকের ব্রণের সমস্যা এবং অন্যান্য সমস্যা দূর হবে। এছাড়াও কাকুড় ব্লেন্ডারে ভালো করে ব্লেন্ড করে ছেকে রসটুকু বের করে এই রস আপানি লোশনের মতো করে ব্যবহার করুন। এতে ব্রণ এবং অ্যাকজিমার সমস্যা দূর হবে।
চুল পড়া কমায় কাকুড়ে আছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন বি এর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইন্সনিটোল যা আমাদের চুল নতুন করে গজাতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া প্রতিরোধ করে থাকে। তাই নিয়মিত কাকুড় খেলে চুলের অনেক উপকার পাওয়া যায়।
রক্ত তৈরীতে সাহায্য করে কাকুড় রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফলিক অ্যাসিড যা রক্ত তৈরিতে সাহায্য করে। তাই মানুষের জন্য কাকুড় বিশেষ ভাবে উপকারি।
গরম ও অতিরিক্ত রোদের জন্য হয় সানবান্র্, সামান বয়েল, ডিট হাইপার পাইরেক্সিয়া। কাকুড়ের রস এই অসুখগুলো প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে।
এ ফলে কোন চর্বি নেই। যাদের ওজন নিয়ে বিশেষ চিন্তা তারা এ ফল খেতে পারেন। এই ফল দেহের ওজন কমাতে ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে ভুমিকা রাখে।
কাকুড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি, যা গরমে শরীরের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সাহায্য করে। কাকুড়ে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ, যা খাদ্য হজম করতে এবং হজম বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।
মন্তব্য করুন