
আজ (৪ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশে বিশ্ব ক্যান্সার দিবস পালিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো, বাংলাদেশে ও বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে এই দিবসটি পালন করা হচ্ছে। দিবসটি ইউনিয়ন ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্যানসার কন্ট্রোল (ইউআইসিসি) নামের একটি আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থার নেতৃত্বে উদযাপিত হয়, যা আগে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন নামে পরিচিত ছিল। সংস্থাটির সদর দপ্তর জেনেভায় অবস্থিত এবং এর ১৭০টির বেশি দেশে প্রায় ২ হাজার সদস্য রয়েছে।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের প্রথম উদযাপন শুরু হয়েছিল ২০০০ সালে, প্যারিসে ক্যানসারের বিরুদ্ধে বিশ্ব সম্মেলনের আয়োজনের মাধ্যমে। (ইউআইসিসি) ক্যান্সারের প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ ও মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার কাজ করে। সংস্থাটি ২০০৮ সালে প্রথমবার এই দিবস উদযাপন শুরু করে।
দিবস উদযাপনের মূল উদ্দেশ্য হলো মারাত্মক ও প্রাণঘাতী এই রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের সহায়তার জন্য মানুষকে উৎসাহিত করা।
গ্লোবাল ক্যানসার অবজারভেটরির তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে বাংলাদেশে ক্যান্সারে ১,১৬,৫৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নতুনভাবে আক্রান্ত হয়েছে ১,৬৭,২৫৬ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতিবছর প্রায় ৮২ লাখ মানুষ ক্যান্সারে মৃত্যুবরণ করে। বিশেষ করে, প্রতি বছর প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ নারী ব্রেস্ট ক্যানসারে আক্রান্ত হন। তবে তামাক ব্যবহার পরিহারের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ ক্যান্সারে মৃত্যুর হার কমানো সম্ভব।
বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ২০২৫ সালের গবেষণা অনুযায়ী, দেশে ক্যান্সারে আক্রান্ত প্রায় অর্ধেক (৪৬%) রোগীর মধ্যে তামাক ব্যবহারের সংযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্ব ক্যান্সার দিবসের মাধ্যমে ক্যান্সার প্রতিরোধ, প্রাথমিক শনাক্তকরণ এবং রোগীদের সহায়তার গুরুত্ব সম্পর্কে জনগণকে আরও সচেতন করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন