
ওজন কমাতে চাইলে শুধু শরীরচর্চার ওপর ভরসা করলে চলবে না। তার পাশাপাশি প্রতিদিন কী খাচ্ছেন, বিশেষ করে নাস্তা বা স্ন্যাকস হিসেবে কী গ্রহণ করছেন, সেদিকেও কড়া নজর রাখা জরুরি। কারণ অনেক সময় অজান্তেই এই নাস্তার মাধ্যমেই অতিরিক্ত ক্যালরি ও চিনি শরীরে ঢুকে পড়ে, যা ওজন কমানোর পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরচর্চার মাত্রা বাড়ানোর পাশাপাশি শরীরের জন্য পর্যাপ্ত ও সঠিক জ্বালানি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু মহামারীর সময় ঘরবন্দি জীবন, মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার কারণে অনেকের স্ন্যাকস খাওয়ার অভ্যাস আরও অস্বাস্থ্যকর হয়ে উঠেছে।
স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং পুষ্টিবিদদের মতামতের আলোকে ওজন কমানোর পথে সবচেয়ে ক্ষতিকর কিছু জনপ্রিয় স্ন্যাকস নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো—
১. আলুর চিপস আলুর চিপস এমন একটি খাবার, যা পছন্দ করেন না—এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। তবে এর স্বাস্থ্য উপকারিতা খুঁজে পাওয়া আরও কঠিন। অতিরিক্ত তেল ও লবণে ভরপুর এই খাবার তীব্র আসক্তি তৈরি করে। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় আলুর চিপস থাকে, তাদের প্রতি বছর ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। তাই ওজন কমাতে চাইলে আলুর চিপসকে না বলাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।
২. চকলেট চকলেট মানবজাতির অন্যতম প্রিয় খাবার। পরিমিত মাত্রায় ডার্ক চকলেট স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী হলেও সমস্যাটা তৈরি হয় মিল্ক চকলেটে। এতে অতিরিক্ত চিনি ও ক্যালরি থাকায় নিয়মিত খেলে ওজন বাড়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনে সর্বোচ্চ ৩.৫ আউন্স ডার্ক চকলেট উপকারী হলেও মিল্ক চকলেট যত কম খাওয়া যায়, ততই ভালো।
৩. ভাজা-পোড়া খাবার রাস্তার ভাজা-পোড়া খাবার যেমন—আলুর পুড়ি, বেগুনি, সিঙ্গারা—খেতে মুখরোচক হলেও এগুলোতে থাকে অতিরিক্ত তেল, লবণ ও ময়দা। নিয়মিত এসব খাবার খেলে শরীরে অপ্রয়োজনীয় চর্বি জমতে থাকে এবং ওজন কমানো কঠিন হয়ে পড়ে।
৪. ইয়োগার্ট পারফেইটস টক দই স্বাস্থ্যকর—এ নিয়ে কোনো দ্বিমত নেই। তবে বাজারজাত ফ্লেভারড ইয়োগার্ট ও ইয়োগার্ট পারফেইটসের ক্ষেত্রে চিত্র ভিন্ন। এতে ব্যবহৃত গ্রানোলা, সিরাপ ও চিনি আপনার দৈনিক চিনির চাহিদা একবারেই পূরণ করে দিতে পারে, যা ওজন কমানোর জন্য মোটেও সহায়ক নয়।
৫. চিনিযুক্ত সিরিয়াল অনেকে সিরিয়ালকে স্বাস্থ্যকর ভেবে নাস্তা হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু বাস্তবে অনেক সিরিয়ালে এতটাই চিনি থাকে যে তা প্রায় একটি ক্যান্ডি বারের সমান ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিরিয়ালের বদলে ওটমিল খেলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ কমে।
৬. ক্যানড ফ্রুট ককটেল ফল মানেই স্বাস্থ্যকর—এই ধারণা অনেকের। কিন্তু বেশিরভাগ ক্যানড ফ্রুট ককটেলে থাকে কর্ন সিরাপে ভরপুর অতিরিক্ত চিনি। অতিরিক্ত চিনি শুধু ওজন বাড়ায় না, বরং মানসিক হতাশাও বাড়াতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
৭. গ্রানোলা বার গ্রানোলা বারকে অনেকেই স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ গ্রানোলা বার চকলেট বা সিরাপে মোড়ানো থাকে, যা বাড়তি চিনি যোগ করে। এছাড়া, যেই প্রোটিন ও ফাইবারের জন্য এই বার খাওয়া হয়, অধিকাংশ ক্ষেত্রে তা পর্যাপ্ত মাত্রায় পাওয়া যায় না।
ওজন কমাতে চাইলে প্রথমেই নজর দিতে হবে কতটা চিনি ও অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি গ্রহণ করছেন সেদিকে। নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি সঠিক নাস্তা বেছে নেওয়াই হতে পারে আপনার ওজন কমানোর সবচেয়ে কার্যকর চাবিকাঠি।
মন্তব্য করুন