
শীতের সময় তেমন তেষ্টা না পাওয়ায় অনেকেই পর্যাপ্ত পানি পান করেন না। গরমের তুলনায় শীতে শরীর দ্রুত আর্দ্রতা হারায়, ফলে সহজেই তৈরি হয় পানিশূন্যতা। শরীরে পানি কমে গেলে অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগে, হজমের সমস্যা বাড়ে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো অসুবিধা দেখা দেয়।
মানবদেহের ৭০ শতাংশেরও বেশি অংশ পানি দিয়ে গঠিত। তাই ঋতু যাই হোক, সারা বছর পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত প্রয়োজন। তবে সবার শরীরের চাহিদা এক নয়—শিশু, নারী ও পুরুষের পানি প্রয়োজন ভিন্ন। পাশাপাশি যারা নিয়মিত ব্যায়াম করেন বা শারীরিক পরিশ্রম বেশি করেন, তাদের পানির চাহিদা আরও বেশি।
* নারীদের প্রতিদিন ৬-৮ গ্লাস * ব্যায়াম বা ভারী কাজ করেন এমন নারীরা ৮ থেকে ১০ গ্লাস * পুরুষের জন্য ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানিই যথেষ্ট, তবে যারা অতিরিক্ত পরিশ্রম করেন তারা ১০ থেকে ১৪ গ্লাস পানি পান করুন।
শীতকালে ঠাণ্ডা পানি পান করতে অনেকেরই অনীহা থাকে, যার ফলে প্রয়োজনীয় পানি শরীরে প্রবেশ করে না। এই সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে হালকা গরম পানি। গরম পানি শুধু পান করতে আরামই দেয় না, বরং এর রয়েছে নানা স্বাস্থ্য উপকারিতা।
গরম পানি বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) বাড়ায়, ফলে শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট দ্রুত ঝরে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম পানিতে মধু, লেবু ও আদা মিশিয়ে পান করলে উপকার মেলে।
গরম পানি খেলে ঘাম বৃদ্ধি পায়। ঘামের সঙ্গে শরীর থেকে ক্ষতিকর টক্সিন বের হয়ে যায়, যা ডিটক্সিফিকেশনে সাহায্য করে।
খাওয়ার পর গরম পানি পানে হজম প্রক্রিয়া উন্নত হয় এবং গ্যাস ও অম্বলের সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়া যায়।
গরম পানি দেহে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক করে, যা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটায়।
নিয়মিত গরম পানি পান করলে অন্ত্রে মল নরম থাকে, ফলে কোষ্ঠকাঠিন্য কমে যায় এবং হজমশক্তি বাড়ে।
মন্তব্য করুন