
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচকে একজন ফুটবলারের ক্যারিয়ারের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে অতীতের ইতিহাস কিংবা দুই দেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবেগে ভেসে না গিয়ে কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই মনোযোগী থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই সেমিফাইনাল। ২০০৫ সালের পর প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হচ্ছে ফুটবল বিশ্বের দুই ঐতিহ্যবাহী শক্তি ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা। ম্যাচের বিজয়ী দল আগামী রোববার বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলবে।
টানা দুটি ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠেও শিরোপা জিততে পারেনি ইংল্যান্ড। এবার ৬০ বছরের বিশ্বকাপ শিরোপা-খরা কাটিয়ে নতুন ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছে থ্রি লায়ন্সরা। পাশাপাশি গত চারটি বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে ওঠার সুযোগও রয়েছে তাদের সামনে।
ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে হ্যারি কেইন বলেন, এটি অসাধারণ একটি ম্যাচ। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন এবং বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলার সুযোগ সত্যিই বিশেষ।
তিনি আরও বলেন, এমন মুহূর্তে ছোটবেলার সেই স্বপ্নগুলোর কথা মনে পড়ে, যখন ভাবতাম একদিন এমন বড় ম্যাচে খেলব। এর চেয়ে বড় মঞ্চ আর হতে পারে না। তাই ম্যাচটি নিয়ে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলাই আমাদের সেরাটা বের করে আনতে সাহায্য করবে।
বুধবারের সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার মার্সিডিজ-বেনজ স্টেডিয়ামে। দুই দলের অতীতের উত্তেজনাপূর্ণ ইতিহাসের কারণে ম্যাচটিকে ঘিরে নেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
১৯৮২ সালের ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি এখনও দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলে। দ্বীপপুঞ্জটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে আর্জেন্টিনা এখনও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বিরোধ বজায় রেখেছে। সেই ইতিহাসের কারণে এই লড়াই ফুটবলের গণ্ডি ছাড়িয়েও আলাদা গুরুত্ব বহন করে।
ম্যাচে বাড়তি আবেগ সামলে শৃঙ্খলা ধরে রাখা কতটা গুরুত্বপূর্ণ— এমন প্রশ্নের জবাবে কেইন বলেন, ‘হ্যাঁ, আবার না-ও। ইতিহাস নিয়ে অতিরিক্ত ভাবার প্রয়োজন নেই।’
তিনি বলেন, ‘ইতিহাস অবশ্যই এই লড়াইয়ের একটি অংশ। সংবাদমাধ্যম ও সমর্থকেরা সেটি নিয়ে আলোচনা করবেন, সেটাই স্বাভাবিক।’
‘কিন্তু একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমরা শুধু একটি শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলতে নামছি। তারা বুদ্ধিমান, কৌশলী এবং ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে জানে। প্রতিপক্ষের কাছ থেকে ফাউল আদায় করতেও তারা দক্ষ। ক্যারিয়ারে এমন অনেক দলের বিপক্ষেই খেলতে হয়।’
কেইন আরও বলেন, ‘এটি ইংল্যান্ড বনাম আর্জেন্টিনা— বিশ্বের অন্যতম দুই শক্তিশালী ফুটবল জাতির লড়াই। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে দুই পরাশক্তির মুখোমুখি হওয়াই সবচেয়ে বড় বিষয়। বাকি সবকিছু তার তুলনায় গৌণ।’
সবশেষে তিনি বলেন, ‘প্রতিটি ম্যাচের মতোই আমরা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি নিয়ে মাঠে নামব। এই ম্যাচও তার ব্যতিক্রম নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই মঞ্চে সফল হওয়ার সামর্থ্যের ওপর আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস রয়েছে।’
মন্তব্য করুন
১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ পিএম