
দীর্ঘ চার দশকের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে জয় তুলে নিল মেক্সিকো। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে ইকুয়েডরকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে স্বাগতিকরা। প্রথমার্ধের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়।
বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচটি বজ্রঝড়ের কারণে নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পরে শুরু হয়। আসতেকা স্টেডিয়ামে মেক্সিকোর হয়ে গোল দুটি করেন হুলিয়ান কিনোনেস ও রাউল হিমেনেস।
এটি ছিল ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে মেক্সিকোর প্রথম জয়। শেষবার নিজেদের মাটিতে আয়োজিত সেই বিশ্বকাপেই নকআউটে জয়ের স্বাদ পেয়েছিল দলটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে মেক্সিকো। তাদের দ্রুতগতির আক্রমণে শুরুতে বেশ চাপে পড়ে যায় ইকুয়েডর। প্রথম ১০ মিনিট প্রতিরোধ গড়ে তুললেও এরপর ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরতে চেষ্টা করে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
১৮তম মিনিটে গন্সালো প্লাতার দারুণ একক প্রচেষ্টার পর জন ইবোয়া বক্সে ঢুকে বাঁ পায়ের শক্তিশালী শট নেন। তবে বল পোস্টে লেগে বাইরে চলে গেলে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হয় ইকুয়েডরের।
২২তম মিনিটে ম্যাচের প্রথম গোলটি আসে মেক্সিকোর পক্ষে। ইকুয়েডরের আক্রমণ প্রতিহত করে হেসুস গাইয়ার্দোর বাড়ানো বল থেকে অফসাইড ফাঁদ ভেঙে বাম দিক দিয়ে এগিয়ে যান হুলিয়ান কিনোনেস।
এরপর একক দক্ষতায় ডিফেন্ডারদের পেছনে ফেলে বক্সের ভেতর থেকে জোরালো শটে গোল করেন তিনি। তার শক্তিশালী শট ঠেকানোর কোনো সুযোগই পাননি ইকুয়েডরের গোলরক্ষক।
পরের গোলটি আসে দ্রুতই। সেখানে বড় অবদান ইকুয়েডরের রক্ষণভাগের বড় ভুলের। তকে হিমেনেসের ফিনিশিং ছিল দুর্দান্ত। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে জোয়েল ওর্দানেস সরাসরি দিয়ে বসেন হিমেনেসকে। তিনি কিনোনেসের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে বক্সের একটু ভেতরে দুই ডিফেন্ডারের মাঝ দিয়ে দারুণ শটে বল জালে জড়ান পোস্ট ঘেঁষে।
ইকুয়েডরকে তখন ছন্নছাড়া মনে হচ্ছিল। তবে ৩৫ মিনিটের পর থেকে একটু গুছিয়ে নেয় তারা। ৪০তম মিটে ইবোয়ার জোরাল শট লাফিয়ে ফিরিয়ে দেন রাউল রাহনেল। ৪২তম মিনিটেও কর্নার করে দলকে রক্ষা করেন মেক্সিকোর গোলকিপার।
বিরতির পর ম্যাচে বলের দখল কিছুটা বাড়ায় ইকুয়েডর। প্রথম ২০ মিনিট তারা আক্রমণ গড়লেও পরিষ্কার কোনো গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। মেক্সিকোও দ্বিতীয়ার্ধে নিজেদের রক্ষণভাগ শক্ত রেখে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখে। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। এই জয়ের মাধ্যমে ৪০ বছরের নকআউট জয়ের অপেক্ষা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় জায়গা নিশ্চিত করল মেক্সিকো।
মন্তব্য করুন