
ফুটবল দুনিয়ায় আরলিং হালান্ডকে নিয়ে এখন একটাই প্রশ্ন—তিনি কি আসলেই রক্ত-মাংসের মানুষ, নাকি গোল করার কোনো অত্যাধুনিক রোবট বা মেশিন? গতি, শক্তি আর নিখুঁত ফিনিশিংয়ের কারণে সমর্থক থেকে শুরু করে বিশ্লেষকরা তাকে কখনো 'রোবট', কখনো 'গোলমেশিন' আবার কখনো বা 'চিতাবাঘ' বলে আখ্যা দিয়ে থাকেন।
মাঠে তার অতিমানবীয় দৌড় আর ক্ষিপ্রতার সামনে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের অসহায় আত্মসমর্পণ এখন নিয়মিত দৃশ্য। শুধু মাঠ কাঁপানোই নয়, রীতিমতো গোল বন্যাবইয়ে একের পর এক রেকর্ড চূর্ণবিচূর্ণ করে চলেছেন এই নরওয়েজিয়ান স্ট্রাইকার।
বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা এই তারকা সদ্য সমাপ্ত ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে আবারও জিতে নিয়েছেন মর্যাদাপূর্ণ ‘গোল্ডেন বুট’। ক্লাবের সেই আগুনে ফর্ম তিনি টেনে এনেছেন আন্তর্জাতিক মঞ্চেও। ক্যারিয়ারের প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে এসেই নিজের জাত চেনাচ্ছেন এই 'রোবটরূপী মানুষ'। আসরে মাত্র ৩ ম্যাচ খেলেই ইতোমধ্যে তার নামের পাশে যোগ করেছেন ৫টি গোল।
আন্তর্জাতিক ফুটবলে হালান্ডের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তো আরও চোখ কপালে তোলার মতো। নরওয়ের জার্সিতে টানা ১৩ ম্যাচে জালের দেখা পেয়েছেন তিনি। স্লোভেনিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হওয়া এই গোলযাত্রায় তার সর্বশেষ শিকার আইভরিকোস্ট, যাদের বিপক্ষে দলের জয়সূচক গোলটিও এসেছে তার পা থেকেই। সবমিলিয়ে দেশের হয়ে খেলা এই শেষ ১৩ ম্যাচেই হালান্ডের গোলসংখ্যা ২৫টি!
এক নজরে হালান্ডের সাম্প্রতিক অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান: আন্তর্জাতিক ফর্ম: টানা ১৩ ম্যাচে গোল।
১৩ ম্যাচে গোল সংখ্যা: ২৫টি।
বিশ্বকাপের পারফরম্যান্স: ৩ ম্যাচে ৫ গোল।
অর্জন: ম্যানচেস্টার সিটির হয়ে আবারও প্রিমিয়ার লিগ গোল্ডেন বুট জয়।
ফুটবলের ইতিহাসে এমন অবিশ্বাস্য এবং ধারাবাহিক পারফরম্যান্স খুব কমই দেখা গেছে। আর তাই হালান্ডের এই অতিমানবীয় পরিসংখ্যান দেখার পর ফুটবলপ্রেমীদের মনে এই প্রশ্ন জাগাটাই স্বাভাবিক—হালান্ড কি আসলেই কোনো মানুষ, নাকি গোল করার প্রোগ্রাম সেট করা কোনো রোবট?
মন্তব্য করুন