
ম্যাচের চতুর্থ মিনিটেই গোল হজম, আর এর কিছুক্ষণ পরেই লাল কার্ডের বড় ধাক্কা। শুরুর এই টালমাটাল অবস্থা থেকে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারল না ইরাক।
অন্যদিকে, প্রথমার্ধের দাপট ধরে রেখে দ্বিতীয়ার্ধে রীতিমতো গোল উৎসবে মাতল সেনেগাল। ইরাককে ৫-০ গোলে বিধ্বস্ত করে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে ওঠার আশা বাঁচিয়ে রাখল আফ্রিকার দলটি।
শুক্রবার টরেন্টোয় গ্রুপ পর্বের নিজেদের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। টানা দুই হারের পর এই মহাগুরুত্বপূর্ণ জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে ‘আই’ গ্রুপের তৃতীয় স্থানে শেষ করল সেনেগাল। গোল ব্যবধান -৩ থেকে +২-এ নামিয়ে এনে সেরা আটটি তৃতীয় দলের তালিকায় এই মুহূর্তে পঞ্চম স্থানে আছে তারা। সব গ্রুপের খেলা শেষ হলেই নিশ্চিত হবে সেরা বত্রিশে সেনেগালের জায়গা হচ্ছে কি না।
এই গ্রুপ থেকে তিন ম্যাচের সবকটিতে জিতে ৯ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে ফ্রান্স। শেষ ম্যাচে ফরাসিদের কাছে ৪-১ গোলে হেরেও ৬ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হিসেবে পরের রাউন্ডে গেছে নরওয়ে।
অন্যদিকে, দীর্ঘ ৪০ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে মাথা উঁচু করে লড়াই করার যে স্বপ্ন ইরাক দেখেছিল, তা অপূর্ণই রয়ে গেল। গ্রাহাম আর্নল্ডের শিষ্যরা গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচেই হেরে বিদায় নিল টুর্নামেন্ট থেকে। এর আগে ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপেও তিন ম্যাচ হেরেছিল ইরাক, তবে সেবার ৪ গোল হজমের বিপরীতে ১টি গোল করতে পেরেছিল তারা। এবার তাদের জালে জড়িয়েছে ১২টি গোল, আর প্রতিপক্ষের জালে তারা বল পাঠাতে পেরেছে মাত্র একবার।
গ্রুপ পর্বের বাধা পেরোনোর সমীকরণ মাথায় নিয়ে দুই দলই জয়ের লক্ষ্যে মাঠে নামে। তবে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল সেনেগাল।
৪র্থ মিনিটে ইদ্রিসা গানার শট প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়ের গায়ে লেগে কর্নার হয়। সেই কর্নার থেকে হাবিব দিয়ারার দারুণ হেডে এগিয়ে যায় সেনেগাল (১-০)।
১৩তম মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে থাকা সাদিও মানেকে পেছন থেকে টেনে ধরেন ইরাকের রেবিন সুলাকা। রেফারি প্রথমে হলুদ কার্ড দেখালেও, ভিএআর (ঠঅজ) রিভিউ দেখে সিদ্ধান্ত বদলে তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। ১০ জনের দলে পরিণত হয় ইরাক।
১৯তম মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ পেয়েছিল ইরাক। লং পাস নিয়ন্ত্রণে নিতে যাওয়া আলি আল হামাদিকে পেছন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন সেনেগালের ডিফেন্ডার আব্দুল্লাইয়ে সেক। রেফারি তাকে হলুদ কার্ড দেখালে ইরাকের ডাগআউট তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে।
এক গোলে এগিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে তিন মিনিটের ঝড়ে ইরাককে ম্যাচ থেকে পুরোপুরি ছিটকে দেয় সেনেগাল।
৫৪ মিনিটে ইসমাইলা সারের শট গোলকিপার আটকে দিলেও দুই মিনিট পর আর পারেননি। ভারসাম্য হারানোর মুহূর্তে বাইলাইন থেকে লামিন কামারার কাটব্যাকে নিখুঁত প্লেসিং শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সার (২-০)।
৫৯তম মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার এক দৃষ্টিনন্দন কোনাকুনি শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়ান পেপে (৩-০)।
৭১তম মিনিটে সতীর্থের হেড পাস থেকে বক্সের ভেতরে বল পেয়ে বাম পায়ের জোরালো ভলিতে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন পেপে (৪-০)।
৮২তম মিনিটে গোল ব্যবধান বাড়িয়ে নকআউটের টিকিট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আক্রমণ জারি রাখে সেনেগাল। ম্যাচের শেষ দিকে লিমান এনদিয়ে ইরাকের কফিনে শেষ পেরেকটি পুঁতে স্কোরলাইন ৫-০ করেন।
মন্তব্য করুন