
বিশ্বকাপের নতুন নিয়ম ভঙ্গ করে ইতিহাসের অংশ হয়ে গেলেন প্যারাগুয়ের তারকা মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন। তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার মের্ত মুলদুরের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ ঢেকে রাখায় সরাসরি লাল কার্ড দেখেন তিনি। এর মাধ্যমে বিশ্বকাপে নতুন এই নিয়মের আওতায় শাস্তি পাওয়া প্রথম ফুটবলার হিসেবে নাম লেখান আলমিরন।
শুক্রবার অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধে এগিয়ে যাওয়ার পর বড় ধাক্কা খায় প্যারাগুয়ে। আলমিরনের লাল কার্ডের কারণে পুরো দ্বিতীয়ার্ধ ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয় দলটি। তবে সংখ্যাগতভাবে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত রক্ষণাত্মক নৈপুণ্যে ১-০ গোলের জয় ধরে রাখে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদিত নতুন আইন অনুযায়ী, মাঠে কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ বা জার্সি দিয়ে মুখ আড়াল করতে পারবেন না। এপ্রিল মাসে অনুমোদিত এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হলো বর্ণবাদী, বৈষম্যমূলক বা অবমাননাকর মন্তব্য গোপনে আদান-প্রদান রোধ করা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় মুখ ঢেকে বিতর্কিত মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠার পর ফুটবল কর্তৃপক্ষ কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে। সেই ধারাবাহিকতায় নতুন নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে।
আলমিরনের লাল কার্ড ম্যাচের অন্যতম আলোচিত ঘটনা হলেও শেষ পর্যন্ত সেটিকে ছাপিয়ে যায় প্যারাগুয়ের চমকপ্রদ জয়। শক্তিশালী তুরস্ককে হারিয়ে টুর্নামেন্টে নিজেদের আশা বাঁচিয়ে রাখে দলটি। অন্যদিকে এই পরাজয়ে তুরস্কের বিশ্বকাপ অভিযান কার্যত শেষ হয়ে যায়।
তবে লাল কার্ডের কারণে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে পারবেন না নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সাবেক এই তারকা।
ম্যাচ শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দলের জয় উদযাপন করলেও লাল কার্ডের ঘটনা নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি আলমিরন। তিনি কেবল সতীর্থদের প্রচেষ্টা ও দলের লড়াকু মানসিকতার প্রশংসা করেন এবং সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
আলমিরনের সাবেক সতীর্থ ও ইংলিশ ডিফেন্ডার ড্যান বার্ন জানান, দীর্ঘদিন ধরেই আলমিরনের মুখ ঢেকে কথা বলার অভ্যাস রয়েছে।
তার মতে, নতুন নিয়মের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া অনেক খেলোয়াড়ের জন্যই কঠিন হতে পারে, কারণ এমন আচরণ ফুটবলে অনেকের কাছেই স্বাভাবিক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
প্যারাগুয়ের প্রধান কোচ গুস্তাভো আলফারো জানান, ঘটনার পর আলমিরন মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে পুরো দল তার পাশে রয়েছে।
আলফারো বলেন, খেলোয়াড়টিকে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে দলের গুরুত্বপূর্ণ জয়ই এখন সবচেয়ে বড় বিষয়। সমর্থন ও সাহস জুগিয়ে তাকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরানোর চেষ্টা চলছে।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিল প্যারাগুয়ে। কিন্তু তুরস্কের বিপক্ষে এই জয় তাদের নতুন করে আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে।
কোচ আলফারো মনে করেন, কঠিন পরিস্থিতিতেও দলের লড়াই করার মানসিকতা ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
টুর্নামেন্টে শুধু মুখ ঢেকে কথা বলার নিয়মই নয়, আরও বেশ কিছু নতুন আইন চালু হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে— থ্রো-ইন ও গোল কিক নেওয়ার নির্দিষ্ট সময়সীমা। বদলি খেলোয়াড়দের মাঠ ছাড়ার প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ। চিকিৎসা নেওয়ার পর খেলোয়াড়দের নির্দিষ্ট সময় মাঠের বাইরে রাখা।
তবে এসব নিয়ম নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন আলফারো। তার মতে, আলমিরনের ক্ষেত্রে সরাসরি লাল কার্ডের বদলে হলুদ কার্ডই যথেষ্ট শাস্তি হতে পারত।
কোচের ভাষায়, “আমার ভয় হচ্ছে ফুটবল তার স্বাভাবিক সৌন্দর্য হারাবে। আমাদের নিয়মের দাসে পরিণত হওয়া উচিত নয়।”
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম