
২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে আবারও দেখা যাবে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্ডোকে। বয়স ৪১ হলেও তিনি এখনো পর্তুগাল দলের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা। আজ রাত ১১টায় ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হচ্ছে তাঁর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ যাত্রা—যা ফুটবল ইতিহাসে এক বিরল অর্জনের অংশ।
একই দিনে আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসি ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার মাইলফলক স্পর্শ করার পর রোনালদোও সেই অভিজাত ক্লাবে নাম লেখাতে যাচ্ছেন। ফুটবল বিশ্বে দুই কিংবদন্তির এই সমান্তরাল যাত্রা আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
৪১ বছর বয়সী রোনালদোর গতি আগের মতো না থাকলেও তাঁর অভিজ্ঞতা ও ফিনিশিং ক্ষমতা এখনো ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। সৌদি প্রো লিগে খেললেও তিনি পর্তুগাল দলে এখনো নির্ভরতার প্রতীক।
পর্তুগাল সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, বড় মঞ্চে রোনালদোর উপস্থিতিই দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে শিরোপা এনে দেওয়ার পর মেসিকে নিয়ে শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্ক কিছুটা থেমে গিয়েছিল। কিন্তু এবার ৩৮ বছর বয়সেও Lionel Messi আর্জেন্টিনার আক্রমণের মূল ভরকেন্দ্র।
অন্যদিকে প্রশ্ন উঠছে—রোনালদো কি পারবেন তাঁর দলকে একাই এগিয়ে নিতে, যেমনভাবে অতীতে মেসি করেছেন?
পর্তুগাল দল এবার শুধু রোনালদোর ওপর নির্ভরশীল নয়। দলে আছে শক্তিশালী মিডফিল্ড ও আক্রমণভাগ। তবে তাঁর নেতৃত্ব ও অভিজ্ঞতা এখনো অপরিহার্য।
তাঁর বিশ্বকাপ ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল ২১ বছর বয়সে। তখন থেকেই তিনি বড় মঞ্চে আলো ছড়িয়েছেন। যদিও ২০১৮ বিশ্বকাপে চার গোল করার পরও পর্তুগাল শেষ ষোলোতে বিদায় নেয়।
এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে ২২ ম্যাচে রোনালদোর ৮ গোল—সবই গ্রুপ পর্বে। নকআউট পর্বে এখনো গোলের খাতা খুলতে পারেননি তিনি।
পর্তুগাল দলে এবার বড় ভরসা হয়ে উঠতে পারেন মিডফিল্ডার ব্রুনো ফার্নান্দেস। গত মৌসুমে তিনি ৯ গোল ও ২১ অ্যাসিস্ট করে দারুণ ফর্মে ছিলেন।
ফ্রি-কিক, পেনাল্টি এবং থ্রু বল—সব ক্ষেত্রেই তার দক্ষতা পর্তুগালকে নতুন শক্তি দিতে পারে। অনেকেই মনে করছেন, সেট পিস পরিস্থিতিতে তিনিই হতে পারেন গেমচেঞ্জার।
২০২৬ বিশ্বকাপে রোনালদোর এই অভিযান শুধু একটি টুর্নামেন্ট নয়—এটি এক কিংবদন্তির শেষ অধ্যায়গুলোর একটি হতে পারে। বয়স বাড়লেও তাঁর লড়াই, অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব পর্তুগালের জন্য এখনো অমূল্য সম্পদ।
মন্তব্য করুন
৩০ জুন ২০২৬, ০৩:৩৭ পিএম
৩০ জুন ২০২৬, ০৬:৫৪ পিএম