মঙ্গলবার
১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩

মহম্মদপুরের পাটকাঠি যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে

সফল উদ্যোক্তা জাফর মোল্যা
এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর
প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩০ এএম
মহম্মদপুরের পাটকাঠি যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে

এক সময় যা ছিল কেবলই রান্নার জ্বালানি কিংবা ঘরের বেড়া দেয়ার সাধারণ উপকরণ, আজ তা রূপ নিয়েছে অত্যন্ত লাভজনক বাণিজ্যিক পণ্যে। মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার মধুমতি নদীর এলাংখালী ঘাট এখন পরিণত হয়েছে পাটকাঠি সরবরাহ কেন্দ্রে। আর এই বাণিজ্যিক রূপান্তরের নেপথ্যে রয়েছেন ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার বেলজানী গ্রামের ৬০ বছর বয়সী এক দূরদর্শী ব্যবসায়ী মো. জাফর মোল্যা। বেলজানী গ্রামের মৃত: পীর মহম্মদ আলীর ছেলে জাফর মোল্যা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে পাটকাঠির এই ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।

মাগুরা সদর, মহম্মদপুর এবং নড়াইলের লোহাগড়াসহ বিস্তৃর্ণ অঞ্চলের কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ পাটকাঠি ৪৫০ টাকা দরে ক্রয় করেন তিনি। এরপর তা মধুমতীর এলাংখালী ঘাটে জড়ো করে ট্রলারে বোঝাই করা হয়। প্রতি ট্রলারে এক হাজার ৮০০ মণ থেকে দুই হাজার মণ পাটকাঠি ধারণ করে, যা নদীপথে রওনা দেয় দূর-দূরান্তে। নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন পারটেক্স মিলে এই পাটকাঠি বিক্রি হয় প্রতি মণ ৫৫০ টাকা দরে। প্রতি কাউন (১৪০৮টি) পাটকাঠি ক্রয় করেন ৬০০ টাকা দরে আর বরিশালের পানচাষিদের বরজে বিক্রি তরেন ৭০০ টাকা দরে।

মহম্মদপুরের পাটকাঠি যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ ও বরিশালে

আপাতদৃষ্টিতে সাধারণ এই পাটকাঠি আজ দেশের বড় বড় কারখানার প্রধান কাঁচামাল। প্রতি চালানে সব খরচ বাদে জাফর মোল্যার লাভ থাকে প্রায় লাখ টাকা। নারায়ণগঞ্জে প্রতি বছর ১০ থেকে ১২ ট্রলার এবং বরিশালে ১২ থেকে ১৫ ট্রলার পাটকাঠি সরবরাহ করেন জাফর মোল্যা। বছরজুড়ে জাফর মোল্যা লাভের অংক বেশ বড়।

জাফর মোল্যার এই বিশাল উদ্যোগে ৪০ থেকে ৫০ জন শ্রমিকের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। জাফর মোল্যার এই উদ্যোগের ফলে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল থাকছে বছরজুড়ে।

নদী পথের এই বাণিজ্যের সাথে জড়িয়ে আছে বহু শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকা। কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলার রমনা ব্যাপারি পাড়ার ৫৮ বছর বয়সী চান মিয়া মাঝি ১৮-২০ বছর ধরে এই রুটেই ট্রলার চালাচ্ছেন। তিনি জানান, মধুমতীর এলাংখালী ঘাট থেকে নারায়ণগঞ্জ কিংবা বরিশালে পাটকাঠি পৌঁছাতে নদীপথে সময় লাগে পাঁচ থেকে ছয় দিন। এই দিনগুলোতে ট্রলারের সংকীর্ণ জায়গাতেই চলে তাদের রান্না, খাওয়া ও রাত্রিযাপন। নানা ঝুঁকি সত্ত্বেও এই নদীপথই তাদের আয়ের প্রধান উৎস।

ব্যবসায়িক সাফল্য ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা সম্পর্কে মো. জাফর মোল্যা সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বলেন, “বহু বছর ধরে এই ব্যবসার সাথে যুক্ত আছি। এটি বেশ লাভজনক এবং এর মাধ্যমে বহু মানুষের সুদিন ফিরেছে।”

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১৪ জুলাই: ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

আফিল গ্রুপের নামে ফেসবুকে ভুয়া পেজ খুলে প্রতারণার অভিযোগ

প্রাথমিক বৃত্তিতে সাংবাদিকপুত্র তাহাব্বিরের সাফল্য

প্রায় পাঁচ বছর পর মোংলা বন্দর কর্মচারী সংঘে নির্বাচনের উদ্যোগ

পুদিনা পাতার উপকারিতা

মারা গেলেন দক্ষিণী খলনায়ক এসআই রাজশেখরন

১ আগস্ট থেকে টাইফয়েড টিকা পাবে ১৫ মাস বয়সী শিশুরা

ভিসা আবেদনকারীদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নির্দেশনা

ঈশ্বরদীতে একতা এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, উত্তরাঞ্চলে রেল যোগাযোগ বন্ধ

মহেশপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নির্মাণশ্রমিকের মৃত্যু

টানা বর্ষণে কেশবপুরে জনজীবন বিপর্যস্ত, চরম দুর্ভোগে নিম্ন আয়ের মানুষ

প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে বৃত্তি পেল মোরেলগঞ্জের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মাইশা

শালিখায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি, বাইসাইকেল ও সেলাই মেশিন বিতরণ

ইজতেমা সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে সরব ওলামা-মাশায়েখ, দ্রুত বিচারের দাবি

অর্থনৈতিক সংকটের ওপর বন্যার নতুন আঘাত

সাবেক শ্রম প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম চৌধুরী আর নেই

গাইবান্ধায় জুলাই শহীদ দিবস পালন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

ঝিকরগাছায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

কুমিল্লায় জলাবদ্ধতা: ভোগান্তিতে এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা

মহেশপুরে বিজিবির উদ্যোগে এক’শ অসহায় পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ

X