মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্লাস্টিকের দাপটে বিলুপ্তির পথে বাঁশ শিল্প

জাহাঙ্গীর হোসেন, ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০৭:৪০ এএম
কালীগঞ্জ ও বারোবাজার অঞ্চলে শত বছরের পুরোনো বাঁশশিল্প এখন বিলুপ্তির পথে।

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের শত শত পরিবারের একসময় জীবিকা অর্জনের একমাত্র উৎস ছিল বাঁশশিল্প। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাঁশের চাষাবাদ কমে যাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রীর ভিড়ে বাজারে বাঁশ সামগ্রীর চাহিদা কমায় এখন বিলুপ্তির পথে এ শিল্প।

বংশপরম্পরায় চলে আসা এ কাজ ছেড়ে অনেকেই বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন ভিন্ন কোনো পেশা। এ পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব এ কুটিরশিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করছেন এর সঙ্গে জড়িতরা।

বারোবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, শত বছর অগে থেকেই বারোবাজার, রাখালগাছি,মালিয়াট ইউনিয়নের মহিষাহাটী, পিরোজপু্র, বেথুলী , সুবিথপুর গ্রামের বাঁশশিল্পীরা তাদের সুনিপুণ হাতের কারুকাজে তৈরি করতেন শৌখিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় হরেক সামগ্রী।

এসবের মধ্যে ছিল চাটাই, হাতপাখা, খালই, ঝুঁড়ি, চালনা, কুলা, ডালা, মোড়াসহ নানা বাহারি পণ্য। পরিবারের ছেলে, বুড়ো, নারী ও শিশু সবাই মিলে পারিবারিক আবহে এ কাজ করা সম্ভব হওয়ায় সবাই ছিল কর্মজীবী, তাই তাদের জীবনও চলত বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে। এ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের চাষও হতে থাকে বাড়ি বাড়ি। মহিষাহাটী গ্রামের সরোজিত দাস বলেন, এসব এলাকার বাঁশ শিল্পের রমরমা অবস্থা এখন আর নেই।

জনসংখ্যা বাড়ার কারণে নতুন আবাসন তৈরিতে ভূমির ব্যবহার বাড়তে থাকায় বাঁশ চাষের প্রয়োজনীয় ভূমি কমে যায়। অন্যদিকে বাজারে বাঁশের বিকল্প হিসেবে নানা ধরনের প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম দামে তা বিক্রি হওয়ায় ধীরে ধীরে এখানকার কুটিরশিল্পে ধস নামে। এ শিল্পে জড়িতরা দিন-রাত পরিশ্রম করেও সংসার চালানোর মতো টাকা রোজগার করতে না পারায় বেছে নিচ্ছেন ভিন্ন কোনো পেশা। আর যারা নিরুপায় হয়ে এখনো এ পেশায় জড়িয়ে আছেন, তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

মালিয়াট ইউনিয়নের বেথুলী গ্রামের ইউ পি তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় বিলুপ্তির পথে এ শিল্প তবে পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ঋণদান কর্মসূচি চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

ঝিনাইদহ জেলা বিসিকের উপ ব্যবস্থাপক সেলিনা রহমান জানান, বাঁশ শিল্প বিলুপ্তির পথে এটা দুঃখজনক। তবে সরকার বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করছে। আমাদের জেলায় এখনো শুরু হয় নাই তবে শীঘ্রই হবে বলে আশা করছি।

কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষক পরিবারের অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী হলোবাঁশের তৈরি এসব সামগ্রী। শস্য সংরক্ষণসহ প্রতিদিনের ব্যবহার্য এসবের বিকল্প কখনোই প্লাস্টিক সামগ্রী হতে পারে না।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

X