
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের বিভিন্ন গ্রামের শত শত পরিবারের একসময় জীবিকা অর্জনের একমাত্র উৎস ছিল বাঁশশিল্প। কিন্তু প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা, জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বাঁশের চাষাবাদ কমে যাওয়া এবং প্লাস্টিক পণ্যসামগ্রীর ভিড়ে বাজারে বাঁশ সামগ্রীর চাহিদা কমায় এখন বিলুপ্তির পথে এ শিল্প।
বংশপরম্পরায় চলে আসা এ কাজ ছেড়ে অনেকেই বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন ভিন্ন কোনো পেশা। এ পরিস্থিতিতে সরকারি-বেসরকারি সহায়তা পেলে ঐতিহ্যবাহী ও পরিবেশবান্ধব এ কুটিরশিল্প আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে বলে মনে করছেন এর সঙ্গে জড়িতরা।
বারোবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ জানান, শত বছর অগে থেকেই বারোবাজার, রাখালগাছি,মালিয়াট ইউনিয়নের মহিষাহাটী, পিরোজপু্র, বেথুলী , সুবিথপুর গ্রামের বাঁশশিল্পীরা তাদের সুনিপুণ হাতের কারুকাজে তৈরি করতেন শৌখিন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় হরেক সামগ্রী।
এসবের মধ্যে ছিল চাটাই, হাতপাখা, খালই, ঝুঁড়ি, চালনা, কুলা, ডালা, মোড়াসহ নানা বাহারি পণ্য। পরিবারের ছেলে, বুড়ো, নারী ও শিশু সবাই মিলে পারিবারিক আবহে এ কাজ করা সম্ভব হওয়ায় সবাই ছিল কর্মজীবী, তাই তাদের জীবনও চলত বেশ স্বাচ্ছন্দ্যে। এ শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে বাঁশের চাষও হতে থাকে বাড়ি বাড়ি। মহিষাহাটী গ্রামের সরোজিত দাস বলেন, এসব এলাকার বাঁশ শিল্পের রমরমা অবস্থা এখন আর নেই।
জনসংখ্যা বাড়ার কারণে নতুন আবাসন তৈরিতে ভূমির ব্যবহার বাড়তে থাকায় বাঁশ চাষের প্রয়োজনীয় ভূমি কমে যায়। অন্যদিকে বাজারে বাঁশের বিকল্প হিসেবে নানা ধরনের প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা এবং তুলনামূলক কম দামে তা বিক্রি হওয়ায় ধীরে ধীরে এখানকার কুটিরশিল্পে ধস নামে। এ শিল্পে জড়িতরা দিন-রাত পরিশ্রম করেও সংসার চালানোর মতো টাকা রোজগার করতে না পারায় বেছে নিচ্ছেন ভিন্ন কোনো পেশা। আর যারা নিরুপায় হয়ে এখনো এ পেশায় জড়িয়ে আছেন, তারা মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
মালিয়াট ইউনিয়নের বেথুলী গ্রামের ইউ পি তরিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় বিলুপ্তির পথে এ শিল্প তবে পরিবেশবান্ধব ও ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সহজ শর্ত ও স্বল্প সুদে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে ঋণদান কর্মসূচি চালু করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।
ঝিনাইদহ জেলা বিসিকের উপ ব্যবস্থাপক সেলিনা রহমান জানান, বাঁশ শিল্প বিলুপ্তির পথে এটা দুঃখজনক। তবে সরকার বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রীয়ভাবে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ঋণের ব্যবস্থা করছে। আমাদের জেলায় এখনো শুরু হয় নাই তবে শীঘ্রই হবে বলে আশা করছি।
কৃষিপ্রধান বাংলাদেশের প্রতিটি কৃষক পরিবারের অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী হলোবাঁশের তৈরি এসব সামগ্রী। শস্য সংরক্ষণসহ প্রতিদিনের ব্যবহার্য এসবের বিকল্প কখনোই প্লাস্টিক সামগ্রী হতে পারে না।
মন্তব্য করুন