মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

তপ্ত গ্রীষ্মেও কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সৌন্দর্যে মুগ্ধ মানুষ

এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
তপ্ত গ্রীষ্মেও কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সৌন্দর্যে মুগ্ধ মানুষ

বৈশাখ মানেই রুক্ষ প্রকৃতি, খাঁ খাঁ রোদ্দুর আর জনজীবনে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। কিন্তু এই তীব্র দাবদাহ ও তপ্ত নিশ্বাসের ভেতরেও প্রকৃতি যেন সবটুকু উজাড় করে দিয়ে নিজের ডালা সাজিয়েছে এক অদ্ভুত মায়ায়। মাগুরার মহম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন শুধুই লাল রঙের জয়গান। গ্রীষ্মের এই প্রচন্ড তাপদাহে প্রকৃতিতে এক অনন্য রূপ এনে দিয়েছে আগুনরাঙা ‘কৃষ্ণচূড়া’। গাছের ডালপালা ছাপিয়ে লাল-কমলা ফুলের এই সমারোহ যেন তৃষ্ণার্ত চোখে প্রশান্তির অমিয় ধারা বইয়ে দিচ্ছে।

মহম্মদপুরের পথে-প্রান্তরে এখন কান পাতলে শোনা যায় আগুনের গান। তবে এ আগুন পোড়ায় না, বরং মুগ্ধতার আবেশ ছড়ায়। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই যেন গাঢ় লাল মুকুটে সেজেছে প্রকৃতি। চিকন সবুজ পাতার ফাঁক গলে যখন সূর্যের আলো রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার উপর পড়ে, তখন মনে হয় যেন সবুজের ক্যানভাসে কোনো শিল্পী পরম মমতায় রঙের আঁচড় দিয়েছেন। সড়কের বাঁকে, স্কুল, অফিস-বাড়ির আঙিনায় কিংবা পুকুরপাড়ে মন মাতানো ও পরাণ জুড়ানো এই দৃশ্য যেন মানুষের ক্লান্তি হরণ করে নেয় মুহূর্তেই।

প্রকৃতির এই আপন সাজে মুগ্ধ হয়ে মানুষও ক্ষণিকের জন্য ভুলে যায় গরমের অস্বস্তি। উপজেলার মেঠো পথ থেকে শুরু করে পিচঢালা সড়ক, স্কুল, অফিস-বাড়ির আঙিনাসহ বিভিন্ন এখায় যেন কৃষ্ণচূড়ার একচ্ছত্র আধিপত্য। ঝরা ফুলের লাল গালিচা বিছানো পথে হাঁটতে হাঁটতে আজও অনেক প্রেমিক প্রাণ খুঁজে পায় সেই পুরনো গানে। যেন কানে বেজে ওঠে সেই চেনা সুর ‘রং লেগেছে কৃষ্ণচূড়ায়, রং লেগেছে আমার অবুঝ মনে’। দখিনা বাতাসের হিল্লোলে যখন সেই রক্তিম ফুলগুলো দুলে ওঠে, তখন মনে হয় যেন প্রকৃতি আলতো করে কানে কানে বলে যাচ্ছে; প্রলয় আর রুক্ষতার ভেতরেও সুন্দরের জয়গান থামে না।

মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ, সড়কের পাঁশেসহ বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লায় কৃষ্ণচূড়া তার পূর্ণ যৌবন নিয়ে হাজির হয়েছে। এই নয়নাভিরাম দৃশ্যে বিমোহিত হয়ে পথচারীরা থমকে দাঁড়াচ্ছেন। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মায়ায় পড়ছেন। কেউবা মোবাইল ফোনের লেন্সে বন্দী করছেন এই রক্তিম উন্মাদনা, কেউবা প্রিয়জনের সঙ্গে স্মৃতি হিসেবে ধারণ করছেন এই মোহনীয় মুহূর্তকে।

কৃষ্ণচূড়া শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, এটির গঠন ও বৈচিত্র্যও বেশ নজরকাড়া। সাধারণত উজ্জল লাল বা গাঢ় লাল রঙের হলেও কোথাও কোথাও কমলা ও হলুদ বর্ণের বৈচিত্র্যও চোখে পড়ে। এই ফুলের পাঁচটি পাপড়ি যেন কোনো নিপুণ কারিগরের নকশা করা। বসন্তের বিদায় বেলায় যার আগমন ঘটে, গ্রীষ্মের খররৌদ্রে তা পূর্ণতা পায়। আর এই সৌন্দর্যে শুধু মানুষের মনই ভরে না, বরং প্রাণহীন প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে।

ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশে ঋতুচক্রের আবর্তনে প্রতি বছরই কৃষ্ণচূড়া তার আপন মহিমায় ফিরে আসে। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে এই ফুল যেন আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। সবুজের বুকে এই লাল আগুনের শিখা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিকূলতার মধ্যেও সুন্দরের পরিস্ফুটন এবং বিকশিত হওয়া সম্ভব। মহম্মদপুরের আকাশ যখন এই লাল আভায় রঙিন হয়ে ওঠে, তখন প্রকৃতি ও ফুলপ্রেমী মানুষের মনে প্রশান্তি আসে।

কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায় রঙিন আকাশ পানে দৃষ্টি গেলে মনে পড়ে যায় কিশোর কুমারের গাওয়া কালজয়ী সেই গানের লিরিক; ‘এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে, চোখে চোখ, হাতে হাত, কথা যেত হারিয়ে...’। প্রকৃতির এই মোহনীয় মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে মহম্মদপুর এখন এক অপার্থিব সৌন্দর্যের জনপদ। গ্রীষ্মে প্রকৃতিতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া।

এই কৃষ্ণচূড়ার রঙিন বেলা শুধু চোখের তৃপ্তি নয়, বরং মনের গহীনে জাগিয়ে তোলে প্রেম আর দ্রোহের পুরনো স্মৃতি। পথতরু হিসেবে কৃষ্ণচূড়া যেমন ছায়া দেয়, তেমনি এর রূপ কেড়ে নেয় পথিকের মন। যুগ যুগ ধরে কবি-সাহিত্যিকরা এই ফুল নিয়ে গেয়েছেন বন্দনা। ‘এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে’ কিংবা ‘রং লেগেছে কৃষ্ণচূড়ায়, রং লেগেছে আমার অবুঝ মনে’ কালজয়ী এসব গানের সুর আজও যেন মহম্মদপুরের দক্ষিণা বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়। কৃষ্ণচূড়া মানেই যেন এক দীর্ঘশ্বাসের মাতাল করা ঘ্রাণ, যেখানে প্রেমের অসীম রং মিলেমিশে একাকার।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, ‘গ্রীষ্মের এই রূঢ় সময়ে কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে এক অন্যরকম মাধুর্য দান করেছে। বিশেষ করে রোদের তীব্রতা যখন বাড়ে, তখন এই ফুলের উজ্জলতা আরো কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। আমাদের হাসপাতাল ক্যাম্পাসেও কয়েকটি গাছ রক্তিম রঙে সেজেছে।

প্রতিদিন এখানে আগত রোগী ও স্বজনরা এই সৌন্দর্য দেখে মানসিকভাবে কিছুটা প্রশান্তি পান। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের উচিত এই ধরনের দেশীয় বৃক্ষ আরো বেশি করে রোপণ করা।’

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, চাকু উদ্ধার

কালীগঞ্জে সর্বত্র মাদকের রমরমা ব্যবসা / হুমকির মুখে যুবসমাজ, আতঙ্কে অভিভাবকরা

২০২৬-২৭ বাজেট: যেসব পণ্যের দাম কমতে পারে

দেশের ১৪ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

নড়াইলে ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার, ২ মাসের কারাদণ্ড

স্ত্রীকে তালাক দিয়ে শাশুড়িকে বিয়ে!

আদিতমারীতে তুচ্ছ বিরোধের জেরে সংঘর্ষ, কিশোর নিহত

X