বুধবার
০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

তপ্ত গ্রীষ্মেও কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সৌন্দর্যে মুগ্ধ মানুষ

এস আর এ হান্নান, মহম্মদপুর
প্রকাশ : ১১ মে ২০২৬, ০৯:১৫ এএম
তপ্ত গ্রীষ্মেও কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম সৌন্দর্যে মুগ্ধ মানুষ

বৈশাখ মানেই রুক্ষ প্রকৃতি, খাঁ খাঁ রোদ্দুর আর জনজীবনে ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। কিন্তু এই তীব্র দাবদাহ ও তপ্ত নিশ্বাসের ভেতরেও প্রকৃতি যেন সবটুকু উজাড় করে দিয়ে নিজের ডালা সাজিয়েছে এক অদ্ভুত মায়ায়। মাগুরার মহম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় এখন শুধুই লাল রঙের জয়গান। গ্রীষ্মের এই প্রচন্ড তাপদাহে প্রকৃতিতে এক অনন্য রূপ এনে দিয়েছে আগুনরাঙা ‘কৃষ্ণচূড়া’। গাছের ডালপালা ছাপিয়ে লাল-কমলা ফুলের এই সমারোহ যেন তৃষ্ণার্ত চোখে প্রশান্তির অমিয় ধারা বইয়ে দিচ্ছে।

মহম্মদপুরের পথে-প্রান্তরে এখন কান পাতলে শোনা যায় আগুনের গান। তবে এ আগুন পোড়ায় না, বরং মুগ্ধতার আবেশ ছড়ায়। যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই যেন গাঢ় লাল মুকুটে সেজেছে প্রকৃতি। চিকন সবুজ পাতার ফাঁক গলে যখন সূর্যের আলো রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার উপর পড়ে, তখন মনে হয় যেন সবুজের ক্যানভাসে কোনো শিল্পী পরম মমতায় রঙের আঁচড় দিয়েছেন। সড়কের বাঁকে, স্কুল, অফিস-বাড়ির আঙিনায় কিংবা পুকুরপাড়ে মন মাতানো ও পরাণ জুড়ানো এই দৃশ্য যেন মানুষের ক্লান্তি হরণ করে নেয় মুহূর্তেই।

প্রকৃতির এই আপন সাজে মুগ্ধ হয়ে মানুষও ক্ষণিকের জন্য ভুলে যায় গরমের অস্বস্তি। উপজেলার মেঠো পথ থেকে শুরু করে পিচঢালা সড়ক, স্কুল, অফিস-বাড়ির আঙিনাসহ বিভিন্ন এখায় যেন কৃষ্ণচূড়ার একচ্ছত্র আধিপত্য। ঝরা ফুলের লাল গালিচা বিছানো পথে হাঁটতে হাঁটতে আজও অনেক প্রেমিক প্রাণ খুঁজে পায় সেই পুরনো গানে। যেন কানে বেজে ওঠে সেই চেনা সুর ‘রং লেগেছে কৃষ্ণচূড়ায়, রং লেগেছে আমার অবুঝ মনে’। দখিনা বাতাসের হিল্লোলে যখন সেই রক্তিম ফুলগুলো দুলে ওঠে, তখন মনে হয় যেন প্রকৃতি আলতো করে কানে কানে বলে যাচ্ছে; প্রলয় আর রুক্ষতার ভেতরেও সুন্দরের জয়গান থামে না।

মহম্মদপুর উপজেলা পরিষদ চত্বর, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণ, সড়কের পাঁশেসহ বিভিন্ন এলাকার পাড়া-মহল্লায় কৃষ্ণচূড়া তার পূর্ণ যৌবন নিয়ে হাজির হয়েছে। এই নয়নাভিরাম দৃশ্যে বিমোহিত হয়ে পথচারীরা থমকে দাঁড়াচ্ছেন। তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে প্রবীণরাও এই নৈসর্গিক সৌন্দর্যের মায়ায় পড়ছেন। কেউবা মোবাইল ফোনের লেন্সে বন্দী করছেন এই রক্তিম উন্মাদনা, কেউবা প্রিয়জনের সঙ্গে স্মৃতি হিসেবে ধারণ করছেন এই মোহনীয় মুহূর্তকে।

কৃষ্ণচূড়া শুধু সৌন্দর্যের প্রতীকই নয়, এটির গঠন ও বৈচিত্র্যও বেশ নজরকাড়া। সাধারণত উজ্জল লাল বা গাঢ় লাল রঙের হলেও কোথাও কোথাও কমলা ও হলুদ বর্ণের বৈচিত্র্যও চোখে পড়ে। এই ফুলের পাঁচটি পাপড়ি যেন কোনো নিপুণ কারিগরের নকশা করা। বসন্তের বিদায় বেলায় যার আগমন ঘটে, গ্রীষ্মের খররৌদ্রে তা পূর্ণতা পায়। আর এই সৌন্দর্যে শুধু মানুষের মনই ভরে না, বরং প্রাণহীন প্রকৃতিতে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে।

ষড়ঋতুর এই বাংলাদেশে ঋতুচক্রের আবর্তনে প্রতি বছরই কৃষ্ণচূড়া তার আপন মহিমায় ফিরে আসে। গ্রীষ্মের তপ্ত রোদে এই ফুল যেন আশা-আকাক্সক্ষার প্রতীক। সবুজের বুকে এই লাল আগুনের শিখা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, প্রতিকূলতার মধ্যেও সুন্দরের পরিস্ফুটন এবং বিকশিত হওয়া সম্ভব। মহম্মদপুরের আকাশ যখন এই লাল আভায় রঙিন হয়ে ওঠে, তখন প্রকৃতি ও ফুলপ্রেমী মানুষের মনে প্রশান্তি আসে।

কৃষ্ণচূড়ার রক্তিম আভায় রঙিন আকাশ পানে দৃষ্টি গেলে মনে পড়ে যায় কিশোর কুমারের গাওয়া কালজয়ী সেই গানের লিরিক; ‘এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে, চোখে চোখ, হাতে হাত, কথা যেত হারিয়ে...’। প্রকৃতির এই মোহনীয় মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে মহম্মদপুর এখন এক অপার্থিব সৌন্দর্যের জনপদ। গ্রীষ্মে প্রকৃতিতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া।

এই কৃষ্ণচূড়ার রঙিন বেলা শুধু চোখের তৃপ্তি নয়, বরং মনের গহীনে জাগিয়ে তোলে প্রেম আর দ্রোহের পুরনো স্মৃতি। পথতরু হিসেবে কৃষ্ণচূড়া যেমন ছায়া দেয়, তেমনি এর রূপ কেড়ে নেয় পথিকের মন। যুগ যুগ ধরে কবি-সাহিত্যিকরা এই ফুল নিয়ে গেয়েছেন বন্দনা। ‘এই সেই কৃষ্ণচূড়া, যার তলে দাঁড়িয়ে’ কিংবা ‘রং লেগেছে কৃষ্ণচূড়ায়, রং লেগেছে আমার অবুঝ মনে’ কালজয়ী এসব গানের সুর আজও যেন মহম্মদপুরের দক্ষিণা বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়। কৃষ্ণচূড়া মানেই যেন এক দীর্ঘশ্বাসের মাতাল করা ঘ্রাণ, যেখানে প্রেমের অসীম রং মিলেমিশে একাকার।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচএফপিও) ডা. কাজী মো. আবু আহসান বলেন, ‘গ্রীষ্মের এই রূঢ় সময়ে কৃষ্ণচূড়া প্রকৃতিকে এক অন্যরকম মাধুর্য দান করেছে। বিশেষ করে রোদের তীব্রতা যখন বাড়ে, তখন এই ফুলের উজ্জলতা আরো কয়েক গুণ বৃদ্ধি পায়। আমাদের হাসপাতাল ক্যাম্পাসেও কয়েকটি গাছ রক্তিম রঙে সেজেছে।

প্রতিদিন এখানে আগত রোগী ও স্বজনরা এই সৌন্দর্য দেখে মানসিকভাবে কিছুটা প্রশান্তি পান। পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে আমাদের উচিত এই ধরনের দেশীয় বৃক্ষ আরো বেশি করে রোপণ করা।’

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

অযোধ্যার রাম মন্দিরে অনুদান তছরুপের অভিযোগ, দান কমাচ্ছেন ভক্তরা

আইভরিকোস্টকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় নরওয়ে, প্রতিপক্ষ এবার ব্রাজিল

৮৬ মিনিটে হলান্ডের ম্যাজিক, এগিয়ে গেল নরওয়ে

দিয়ালোর জাদুকরী গোল / নরওয়ের বিপক্ষে আইভরিকোস্টের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন

নুসার জাদুকরী গোল, বিরতির আগেই লিড নিল নরওয়ে

সবার সঙ্গে ঘটনাস্থলে যান মুয়াজ্জিন, অথচ তিনিই ছিলেন হত্যাকারী

ঝিনাইদহে তিন ফসলি জমিতে অটোরাইস মিল নির্মাণ বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

শৈলকুপায় প্রতিপক্ষের হামলায় আহত ভ্যানচালকের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চালুর দাবিতে টানা আন্দোলন, দ্বিতীয় দিনে রোড ব্লক কর্মসূচি

গোবিন্দগঞ্জে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে সাঁওতাল বিদ্রোহের ১৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

ঝিকরগাছা অফিসার্স ক্লাবের প্রীতি ফুটবল ম্যাচে ব্রাজিলকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা চ্যাম্পিয়ন

নতুন কর ছাড়াই ঝিকরগাছা পৌরসভার ৯৪ কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা

মোরেলগঞ্জে ৫ বছর ধরে পলিথিন টাঙ্গিয়ে ছাপড়া ঘরে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

মণিরামপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় ৩ জন আহত, ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

মণিরামপুরে মৎস্য ঘেরে বিষ প্রয়োগের অভিযোগ, প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি

মণিরামপুরে কৃষকদের মাঝে প্রণোদনার বীজ, সার ও চারা বিতরণ

শালিখায় শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ৩৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

যশোরে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর মামলায় দুইজন আটক

যশোরের মহিদুল্লাহকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ

মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ প্রকাশের অভিযোগে জীবননগরে বিএনপি সভাপতির সংবাদ সম্মেলন

X