সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

গাছের মাথায় জীবিকা, সাখাওয়াত এখনও অদম্য

রায়হান জনি, কেশবপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৫ পিএম
আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
গাছের মাথায় জীবিকা, সাখাওয়াত এখনো অদম্য

যশোরের কেশবপুর উপজেলার বায়সা-শ্রীরামপুর সড়ক দিয়ে হাঁটলে চোখে পড়ে সারি সারি তালগাছ। দিগন্তজোড়া সবুজ মাঠের মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা এই তালগাছগুলো শুধু প্রকৃতির সৌন্দর্য বাড়ায় না, বহন করে এক মানুষের অদম্য সংগ্রামের গল্প—তিনি ৬৫ বছর বয়সী সাখাওয়াত হোসেন।

মাত্র ১২ বছর বয়সে দারিদ্র্যের তাড়নায় গাছে ওঠার পেশায় নামেন সাখাওয়াত। কোনো প্রশিক্ষক বা ওস্তাদ ছাড়াই নিজের অভিজ্ঞতা আর চেষ্টায় আয়ত্ত করেন তালগাছে ওঠার কৌশল। বছরের পর বছর চর্চায় হয়ে ওঠেন দক্ষ গাছি। এখনো বয়সের ভার উপেক্ষা করে প্রতিদিন নিয়ম করে ১২টি তালগাছে ওঠেন তিনি।

কেশবপুরের সাখাওয়াত হোসেনের তালগাছের রস সংগ্রহের অনন্য জীবনগাথা গল্প।

প্রতিদিন ভোর, দুপুর ও বিকেল—এই তিন সময়ে গাছে উঠে তিনি প্রায় ২৫ ভাড় তালের রস সংগ্রহ করেন। রসের স্বাদ ও মান অটুট রাখতে নিজস্ব কিছু কৌশলও ব্যবহার করেন। সাখাওয়াত বলেন, “ছোটবেলা থেকে নিজেই শিখেছি। এখন এই রসই আমাদের পরিবারের ভরসা।”

তার ৯ সদস্যের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস এই তালের রস। গাছের নিচেই বসে তার ছেলে ফজর আলী ও নাতি ইসরাফিল প্রতিগ্লাস রস মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করেন। বিশুদ্ধ ও টাটকা রসের স্বাদ নিতে আশপাশের গ্রাম ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে ক্রেতারা ভিড় জমান সড়কের ধারে।

কেশবপুরের সাখাওয়াত হোসেনের তালগাছের রস সংগ্রহের অনন্য জীবনগাথা গল্প।

গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী পেশাগুলো যেখানে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে, সেখানে সাখাওয়াত হোসেন এখনও নিষ্ঠা আর ভালোবাসা দিয়ে ধরে রেখেছেন সেই ঐতিহ্য। স্থানীয়দের কাছে তিনি শুধু একজন গাছি নন, বরং সবার প্রিয় ‘সাখাওয়াত দাদু’।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “সাখাওয়াতের মতো অভিজ্ঞ গাছিরা আমাদের লোকজ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। ৫২ বছর ধরে তার এই নিষ্ঠা সত্যিই প্রশংসনীয়।”

তিনি আরও জানান, তালগাছ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটির গুণাগুণ উন্নয়ন এবং বজ্রপাত প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কেশবপুর অঞ্চলের মাটির গুণেই এখানকার তালের রস বিশেষভাবে সুস্বাদু ও পুষ্টিকর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিয়মিত তালগাছ রোপণে কৃষকদের উৎসাহিত করছে বলেও জানান তিনি।

গাছের নিচেই বসে তার ছেলে ফজর আলী ও নাতি ইসরাফিল প্রতিগ্লাস রস মাত্র ১০ টাকায় বিক্রি করেন।

সাখাওয়াত হোসেনের জীবনের গল্প শুধু একজন শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম নয়; এটি গ্রামীণ অর্থনীতি, ঐতিহ্য এবং প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের গভীর সম্পর্কের এক অনন্য উদাহরণ। তালগাছের চূড়ায় উঠে প্রতিদিন যে রস তিনি সংগ্রহ করেন, তা যেন তার জীবনেরই প্রতিচ্ছবি—কষ্টে অর্জিত, তবুও মধুর ও জীবন্ত।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে অতিরিক্ত সময়ের গোলে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ইরানে বড় হামলা চালাতে ইসরায়েলে রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নুসরাত ফারিয়ার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ! গোলশূন্য বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

মাঝমাঠের তীব্র লড়াইয়ে ম্যাচ এখনো গোলশূন্য

বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াই, স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল তুলছে আর্জেন্টিনা

কলা ছাড়াও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যেসব ফল ও সবজি খাবেন

যশোর সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতি  আজিমুল সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত

তৌহিদী জনতার বাধায় যশোর ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখানো বন্ধ

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

নড়াইলে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, অফিস সহকারী পলাতক

আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে? যা বললেন পরীমণি

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জ্বরের মৌসুমে যা খাওয়া দরকার

যশোর মেডিকেল কলেজে পূবালী ব্যাংকের ক্যাশলেস ক্যাম্পেইন উদ্বোধন

X