সোমবার
২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩

নীলফামারীতে টিকে থাকতে লড়ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প

কাগজ সংবাদ
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:৫১ পিএম
ছবি: ইন্টারনেট থেকে সংগৃহীত

সকাল গড়াতেই উঠানে মেলে দেওয়া হয় কাঁচা বাঁশ। ধারালো দা দিয়ে চেঁছে চেঁছে সরু ফালি বানানো, রোদে শুকানো, তারপর নিপুণ হাতে বুনন এভাবেই তৈরি হয় চালুনি, ডালি, কুলা। একসময় এসব ছাড়া গ্রামবাংলার সংসার কল্পনাই করা যেত না। কিন্তু এখন সেই উঠানেই যেন নেমে এসেছে নিস্তব্ধতা।

নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের রামগঞ্জ গ্রামের সহদেব রায় প্রায় ২৫ বছর ধরে বাঁশের কাজ করছেন। বাবা-দাদার পেশা ধরে রাখাই যেন তার কাছে দায়বদ্ধতা। উঠানে বসে চালুনি বানাতে বানাতে তিনি থেমে বলেন, আগে হাটে নিলেই বিক্রি হইত। এখন দোকানে দোকানে প্লাস্টিক। আমরা বসে থাকি, মাল পড়ে থাকে। বিক্রি হয় না, যদিও হয় খুবই কম।

কথার ফাঁকে হাত থামে না তার। কিন্তু চোখেমুখে হতাশার ছাপ স্পষ্ট। একসময় যে পেশায় সংসার ভালোই চলত, এখন সেই পেশাই টিকিয়ে রাখাই দায়।

গ্রামের হাটে এখন সারি সারি প্লাস্টিকের ডালা, ঝুড়ি, চালুনি। দাম কম, রঙবেরেঙর এসব পণ্যের প্রতি ক্রেতার পছন্দ বেশি। ফলে বাঁশের তৈরি পণ্যের চাহিদা কমে গেছে।

ডোমার উপজেলার বড়রাউতা গ্রামের দেবীরডাঙ্গা এলাকায় এখনো কয়েকটি পরিবার আঁকড়ে ধরে আছে এই ঐতিহ্য। বাড়ির উঠানে বসে পুরুষেরা বাঁশ চাঁছেন, নারীরা তৈরি করেন বিভিন্ন ধরনের পণ্য। স্কুল থেকে ফিরে শিশুরাও কখনো কখনো সাহায্য করে এ কাজে।

কারিগর হরিদাশ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, এই কামই হামার পরিচয়। কিন্তু লাভ নাই, একটা বাঁশ থেইকা ১০-১২টা ডালি হয়, কিন্তু সব খরচ বাদ দিলে প্রতি ডালি থেকে হাতে থাকে ১০-২০ টাকা। এই দিয়া কি সংসার চলে?

কারিগরদের বড় দুঃখ তাদের ব্যবহারের সব ধরনের কাঁচামালের দাম নিয়ে। আগে যে বাঁশ ৫০-৭০ টাকায় মিলত, এখন কিনতে হয় ২০০-২৫০ টাকায়। কিন্তু বাজারে পণ্যের দাম তেমন বাড়েনি। ফলে লাভের অঙ্ক ক্রমেই কমে যাচ্ছে।

অনেকেরই চাষের জমি নেই। বসতভিটাই শেষ সম্বল। দিনভর পরিশ্রম করেও আয় অনিশ্চিত। তাই নতুন প্রজন্ম এই পেশায় আগ্রহ হারাচ্ছে। কেউ শহরে দিনমজুর, কেউ অন্য কাজে ঝুঁকছে।

বাঁশ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে কাজ করছে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) তাদের পক্ষ থেকেও ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাবে কারিগরদের দাবি ঋণ দিলে ঋণ শোধ করতে হয়। আগে বাজার চাই, দাম চাই।

বাঁশ কুটিরশিল্প কেবল আয়ের উৎস নয় এটি গ্রামবাংলার সংস্কৃতি, পরিবেশবান্ধব জীবনযাপন আর প্রজন্মের স্মৃতির অংশ। প্লাস্টিকের সহজলভ্যতায় হয়ত সুবিধা আছে, কিন্তু তার আড়ালে হারিয়ে যাচ্ছে শতবর্ষের দক্ষতা ও ঐতিহ্য।

কারিগর সহদেব রায়ের কথায় যেন সব কারিগরের মনের কথায় ফুটে উঠেছে, আমরা চাই, এই কামটা বাঁচুক। ছাওয়াগুলা যেন লজ্জা না পায় কইতে আমার বাপ বাঁশের কারিগর।

সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, কাঁচামালের দাম নিয়ন্ত্রণ, আধুনিক ডিজাইন প্রশিক্ষণ ও বাজার সম্প্রসারণ ছাড়া এই শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা, বাড়ছে নদীর পানি

আর্জেন্টিনাকে কাঁদিয়ে অতিরিক্ত সময়ের গোলে দ্বিতীয়বার বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন

ইরানে বড় হামলা চালাতে ইসরায়েলে রিফুয়েলিং বিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

নুসরাত ফারিয়ার নতুন ওয়েব ফিল্ম ‘লাপাত্তা’

তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ প্রথমার্ধ! গোলশূন্য বিরতিতে আর্জেন্টিনা ও স্পেন

ইসরায়েলি সংসদে বিক্ষোভের মুখে কক্ষ ছাড়লেন নেতানিয়াহু

মাঝমাঠের তীব্র লড়াইয়ে ম্যাচ এখনো গোলশূন্য

বিশ্বজয়ের চূড়ান্ত লড়াই, স্পেনের আক্রমণের সামনে দেয়াল তুলছে আর্জেন্টিনা

কলা ছাড়াও পটাসিয়াম সমৃদ্ধ যেসব ফল ও সবজি খাবেন

যশোর সীমান্ত পরিবহন বাস মালিক সমিতি  আজিমুল সভাপতি ও রানা সাধারণ সম্পাদক মনোনীত

তৌহিদী জনতার বাধায় যশোর ঈদগাহ মাঠে বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ দেখানো বন্ধ

নড়াইলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে রাজমিস্ত্রিকে হত্যা

বাংলাদেশের আইন মেনেই শেখ হাসিনার বিচার করা হবে: আইনমন্ত্রী

অভয়নগরে চাঁদার দাবিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ভাংচুর মারপিট, আটক ৪ 

মোংলায় আওয়ামী লীগের ‘গুপ্ত কার্যক্রম’ প্রতিহতের ঘোষণা বিএনপির

মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক ঐক্যের ডাক দিলেন নিপুণ রায় চৌধুরী

নড়াইলে প্রধান শিক্ষককে ছুরিকাঘাত, অফিস সহকারী পলাতক

আর্জেন্টিনা জিতলে বিয়ে? যা বললেন পরীমণি

রুদ্ধশ্বাস জয়ে সিরিজ বাংলাদেশের

জ্বরের মৌসুমে যা খাওয়া দরকার

X