মঙ্গলবার
০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ২৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়

তাহমিনা বিশ্বাস
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়

যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে ক্লান্ত মানুষেরা এখন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটাতে মুখিয়ে থাকেন। পাহাড়, নদী, খোলা আকাশ আর সবুজের ছোঁয়ায় নিজেকে হারিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই অঞ্চলটি অবস্থিত নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরে।

বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে চারপাশজুড়ে সবুজ গাছগাছালি আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সাদা মাটির টিলা। এক-দুটি নয়—এখানে রয়েছে মোট ১৬৩টি চিনামাটির পাহাড়, যা স্থানটিকে করেছে অনন্য ও বিস্ময়কর।

বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়

চিনামাটিকে সাধারণত ‘সাদা মাটি’ বলা হলেও বাস্তবে এই পাহাড়গুলোর রং পুরোপুরি সাদা নয়। কোথাও লালচে, ধূসর, হালকা নীলাভ, গোলাপি, ঈষৎ বেগুনি, হলুদ কিংবা টিয়া রঙের আভা চোখে পড়ে। এসব বিচিত্র রঙের মাটির পাহাড় কেটে উত্তোলনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে গড়ে উঠেছে স্বচ্ছ নীল পানির হ্রদ। পাহাড়, হ্রদ ও বিস্তৃত সবুজ মাঠ মিলিয়ে পুরো এলাকাটি যেন এক জীবন্ত প্রাকৃতিক ক্যানভাস।

চিনামাটির পাহাড়ের আশপাশে রয়েছে কমলার বাগান, বিজিবি ক্যাম্পসহ আরও বেশ কয়েকটি নয়নাভিরাম দর্শনীয় স্থান। বর্তমানে চিনামাটি উত্তোলন বন্ধ থাকায় এলাকাটি ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

ঐতিহাসিক দিক থেকেও বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার মাটি অত্যন্ত মিহি ও কোমল—ট্যালকম পাউডারের মতো—যা সিরামিক শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৫৭ সালে প্রথম চিনামাটি উত্তোলনের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬০ সালে কোহিনূর অ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কস বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে।

বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়

১৯৬৪–৬৫ সালে বিজয়পুরে ১৩টি কূপ খনন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে বিসিআইসি এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়। ধাপে ধাপে মোট ৯টি প্রতিষ্ঠান এখানে চিনামাটি উত্তোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। বিজয়পুরকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছোট-বড় টিলা ও সমতল ভূমি মিলিয়ে প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০০ মিটার প্রস্থ জুড়ে বিস্তৃত এই খনিজ এলাকা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন চিনামাটি উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে মজুদ রয়েছে প্রায় ১৩.৭৭ লাখ মেট্রিক টন।

এই অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব বিবেচনায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়কে জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে এটি জিআই স্বীকৃতি লাভ করে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

একনেক সভায় ১০ উন্নয়ন প্রকল্পের অনুমোদন

জামায়াতের ৮.৩৯ লাখ কোটি টাকার ছায়া বাজেট প্রস্তাব

পুরুষ বন্ধুদের কাছ থেকে উপহার পেতে আনুশকার অস্বস্তি!

মণিরামপুরে নাতনীকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় নানাকে কুপিয়ে হত্যা, আটক-১

তথ্য উপদেষ্টা / স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, থাকবে না দলীয় প্রতীক

যশোরসহ ২০ অঞ্চলে ঝড়ের সম্ভাবনা

উত্তাল বঙ্গোপসাগর, চার সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত

ঘুসের টাকা গুনে নেওয়ার ভিডিও ভাইরাল, বাগমারা থানার পুলিশ পরিদর্শক প্রত্যাহার

মহম্মদপুরে মেয়াদোত্তীর্ণ কীটনাশকে নতুন সিল

রামিসা হত্যা: সোহেল ও স্বপ্না ‘কনডেম সেলে’

কেশবপুরে শরীকানা পুকুরের মাছ লুটের অভিযোগ

রাজশাহীতে বিভাগীয় পর্যায়ে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক প্রতিযোগিতার উদ্বোধন

পাবনায় হত্যা মামলার আসামিদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিহত ৩

রাজশাহীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ মিছিল

বিশ্ববাজারে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম

ফের বাড়ল তেলের দাম

বিশ্বকাপ ইতিহাসে পেনাল্টি গোলের রেকর্ডে লিওনেল মেসি

দেশে ফিরলেন ৪৫১৫৮ হাজি, মৃত্যু ৪৯

নওগাঁয় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা

যশোরে স্ত্রী হত্যায় স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা, চাকু উদ্ধার

X