মঙ্গলবার
৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়

তাহমিনা বিশ্বাস
প্রকাশ : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৩:৪৩ পিএম
বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়

যান্ত্রিক জীবনের কোলাহলে ক্লান্ত মানুষেরা এখন প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছু সময় কাটাতে মুখিয়ে থাকেন। পাহাড়, নদী, খোলা আকাশ আর সবুজের ছোঁয়ায় নিজেকে হারিয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হয়ে উঠেছে বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর এই অঞ্চলটি অবস্থিত নেত্রকোনার সুসং দুর্গাপুরে।

বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়ে প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে চারপাশজুড়ে সবুজ গাছগাছালি আর তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা অসংখ্য সাদা মাটির টিলা। এক-দুটি নয়—এখানে রয়েছে মোট ১৬৩টি চিনামাটির পাহাড়, যা স্থানটিকে করেছে অনন্য ও বিস্ময়কর।

বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়

চিনামাটিকে সাধারণত ‘সাদা মাটি’ বলা হলেও বাস্তবে এই পাহাড়গুলোর রং পুরোপুরি সাদা নয়। কোথাও লালচে, ধূসর, হালকা নীলাভ, গোলাপি, ঈষৎ বেগুনি, হলুদ কিংবা টিয়া রঙের আভা চোখে পড়ে। এসব বিচিত্র রঙের মাটির পাহাড় কেটে উত্তোলনের ফলে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত, যেখানে বৃষ্টির পানি জমে গড়ে উঠেছে স্বচ্ছ নীল পানির হ্রদ। পাহাড়, হ্রদ ও বিস্তৃত সবুজ মাঠ মিলিয়ে পুরো এলাকাটি যেন এক জীবন্ত প্রাকৃতিক ক্যানভাস।

চিনামাটির পাহাড়ের আশপাশে রয়েছে কমলার বাগান, বিজিবি ক্যাম্পসহ আরও বেশ কয়েকটি নয়নাভিরাম দর্শনীয় স্থান। বর্তমানে চিনামাটি উত্তোলন বন্ধ থাকায় এলাকাটি ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় টুরিস্ট স্পট হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

ঐতিহাসিক দিক থেকেও বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি টারশিয়ারি যুগের পাহাড়ের অন্তর্ভুক্ত। এখানকার মাটি অত্যন্ত মিহি ও কোমল—ট্যালকম পাউডারের মতো—যা সিরামিক শিল্পের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯৫৭ সালে প্রথম চিনামাটি উত্তোলনের কাজ শুরু হয় এবং ১৯৬০ সালে কোহিনূর অ্যালুমিনিয়াম ওয়ার্কস বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন শুরু করে।

বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়

১৯৬৪–৬৫ সালে বিজয়পুরে ১৩টি কূপ খনন করা হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৩ সালে বিসিআইসি এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়। ধাপে ধাপে মোট ৯টি প্রতিষ্ঠান এখানে চিনামাটি উত্তোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়। বিজয়পুরকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ছোট-বড় টিলা ও সমতল ভূমি মিলিয়ে প্রায় ১৫.৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য ও ৬০০ মিটার প্রস্থ জুড়ে বিস্তৃত এই খনিজ এলাকা থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫ লাখ মেট্রিক টন চিনামাটি উত্তোলন করা হয়েছে। বর্তমানে এখানে মজুদ রয়েছে প্রায় ১৩.৭৭ লাখ মেট্রিক টন।

এই অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদের গুরুত্ব বিবেচনায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন বিজয়পুর চিনামাটির পাহাড়কে জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য আবেদন করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে এটি জিআই স্বীকৃতি লাভ করে।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

১১ মিনিটের রুদ্ধশ্বাস নাটক, জাপানকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় ব্রাজিল

কাসেমিরোর গোলে স্বস্তি, জাপানের বিপক্ষে সমতায় ফিরল ব্রাজিল

সেলেসাওদের স্তব্ধ করে জাপানের গোল, শুরুতেই পিছিয়ে পড়ল ব্রাজিল

যশোরে জাতীয় পার্টির নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত 

শার্শার বসতপুরে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে বেকারি খাদ্য

ইনুর মামলার রায় কাল, সরাসরি দেখবে দেশবাসী

ডুমুরিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

নেইমারকে ছাড়াই জাপানের বিপক্ষে নামছে ব্রাজিল

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে জামায়াত আমিরের শোক

অর্থ বিল পাস, যেসব পরিবর্তন এলো 

এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হলেন আহসান হাবিব

যশোরে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

যশোরে পাট পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধি বিষয়ক মতবিনিময় সভা

যশোরে আদ-দ্বীন হাসপাতালের প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক সেমিনার  

যশোরে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস পালিত

মহেশপুরে গাজীরননেছা বালিকা বিদ্যালয়ে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা

মোরেলগঞ্জে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে নারিকেল চারা ও কৃষি প্রণোদনা বিতরণ

শৈলকুপায় পাঁচ দিনের ব্যবধানে দুই কিশোরের মৃত্যু

সুনামগঞ্জ পৌরসভায় ৫৪ কোটি ১৫ লাখ টাকার বাজেট ঘোষণা

মণিরামপুরে সেতুর কাজ থমকে, দুর্ভোগে ২০ গ্রাম

X