
মাগুরা জেলার নদী-নালা, খাল-বিল, বাওড় ও উন্মুক্ত জলাশয়গুলোতে নিষিদ্ধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের অবাধ ব্যবহারে দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং জলজ জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। আইনগত নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাঝে মধ্যে অভিযান পরিচালনার কথা বলা হলেও, বাস্তবে এই জালের (চায়না দোহার বা দোহাড়) অবৈধ ক্রয়-বিক্রয় এবং ব্যবহার জ্যামিতিক হারে বেড়েই চলেছে। ফলে জেলার চার উপজেলার মিঠা পানির সুস্বাদু দেশি মাছের প্রাকৃতিক উৎসগুলো আজ ধ্বংসের মুখে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা যায়, মাগুরা সদর, মহম্মদপুর, শালিখা ও শ্রীপুর উপজেলার জলাশয়গুলোতে দিন-রাত অবাধে পাতা হচ্ছে এই মারণ ফাঁদ। অথচ এক দশক আগেও বর্ষা মৌসুমে এ অঞ্চলের নদী-নালা, খাল-বিল, বাওড় ও জলাশয়গুলো পানিতে টইটুম্বুর থাকত। মৎস্যজীবীরা তখন ঐতিহ্যবাহী দেশীয় সরঞ্জাম যেমন-ঘুনি, পলো, ঠেলা জাল কিংবা বড়শি দিয়ে মাছ শিকার করতেন। তখন মাছের প্রাচুর্য ও বংশবিস্তার নিয়ে কোনো সংশয় ছিল না। কিন্তু বর্তমান সময়ে চায়না দুয়ারির সর্বগ্রাসী আগ্রাসনে সেই সোনালী অতীত হারিয়ে যাচ্ছে।
লোহার রিং দিয়ে তৈরি অত্যন্ত ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত এই সূক্ষ্ম জালে কেবল ছোট-বড় মাছই নয় বরং আটকা পড়ছে সাপ, ব্যাঙ, কুচিয়া ও কাঁকড়াসহ নানা প্রজাতির জলজ প্রাণী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাছ শিকারি অকপটে স্বীকার করেন, ‘এই জালে রেণু পোনা থেকে শুরু করে বড় ডিমওয়ালা মাছ—; সবই ধরা পড়ে। একবার এই জালের ভেতর ঢুকলে কোনো জীবন্ত প্রাণীর আর বের হওয়ার উপায় থাকে না।’
সচেতন মহলের মতে, ব্যাপক হারে এবং নির্বিচারে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা নিধনের ফলে প্রাকৃতিক উপায়ে মাছের বংশবৃদ্ধি আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে। এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা মৎস্য অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) ফেরদৌসি আক্তার বলেন, ‘চায়না দুয়ারি মূলত মাছের বংশকে একেবারে নির্বংশ করে দিচ্ছে। এটি বন্ধ করার জন্য আমরা নিয়মিত বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছি।’
মাগুরা জেলা মৎস্য অফিসার সাধন চন্দ্র সরকার বলেন, “চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার জলজ পরিবেশের জন্য বড় অভিশাপ। এটি শতভাগ বন্ধ করতে হলে শুধু আইন প্রয়োগ বা প্রশাসনিক অভিযানই যথেষ্ট নয়, এর জন্য সম্মিলিত প্রচেষ্টা, সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী ও জেলেদের সচেতন হওয়া জরুরি।”
মন্তব্য করুন
১৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:২৩ পিএম
১৮ জুলাই ২০২৬, ০৮:০১ পিএম