সোমবার
২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫ আষাঢ় ১৪৩৩
যশোরে লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা

অপ্রতুল জ্বালানি তেলে ‘হ্যাডামওয়ালা’দের বিশৃঙ্খলা, অসহায় পাম্প মালিক

মিলন রহমান
প্রকাশ : ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০৯ এএম
ছবি : গ্রামের কাগজ

যশোর শহরের ঘোপ এলাকার তারিক হোসেন পেট্রোলের জন্য মোটরসাইকেল নিয়ে লাইন দিয়েছেন খাজুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায়। সকাল ১১টায় লাইন দিয়ে দুপুর দুইটায় উপশহর পেট্রোল পাম্পের প্রবেশপথ পর্যন্ত পৌঁছেছেন। তিনি জানালেন, তিন ঘণ্টা তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। ৫শ’ টাকার তেল দিচ্ছে। তাও আবার ফুরিয়ে যায় কিনা সেই আশঙ্কায় আছি। তেলের যদি ঘাটতি না থাকে তাহলে সব পাম্পে যদি একযোগে তেল দেয় তাহলে তো এই লাইন পড়ে না।

লাইনে দাঁড়ানো মধ্যবয়সী রফিকুল ইসলাম জানালেন, সুষ্ঠুভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নিলে সমস্যা হয় না। কিন্তু নানান কায়দায় লাইন ভেঙ্গে উল্টো পাশ থেকে এসে তেল নিয়ে যাচ্ছে। দু’একজন পুলিশ যা আছে তারা শৃঙ্খলা রক্ষা করতে পারছে না। এই শৃঙ্খলা, লাইন ভাঙ্গা কিম্বা উল্টোপথে এসে তেল নেওয়ার অভিযোগ করলেন অনেকেই। কিন্তু এই অভিযোগের সদুত্তর দিতে পারছেন না পাম্প কর্তৃপক্ষ। বুধবার যশোরের বিভিন্ন তেলপাম্প ঘুরে এমন চিত্রই উঠে এসেছে।

যশোরের পেট্রোল পাম্পগুলো ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের জন্য যেনো যুদ্ধ চলছে। কোনো কোনো পাম্পে তেল মিলছে; কোথাও মিলছে না। যে পাম্পে তেল মিলছে সেখানে তেলের জন্য লাইন দিয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা। আবার তেলের এই লাইনেও হচ্ছে বিশৃঙ্খলা। কোথাও কোথাও স্থানীয় প্রভাবশালী চক্র লাইন নিয়ন্ত্রণের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে। অথচ প্রশাসনের সহযোগিতা চাইলে তা মিলছে না বলে অভিযোগ পাম্প সংশ্লিষ্টদের।

উপশহর পাম্পের ম্যানেজার কামাল হোসেন জানালেন, বুধবার তারা ৬ হাজার লিটার ডিজেল ও ৩ হাজার পেট্রোল পেয়েছি। রেশনিং করে বিক্রি হচ্ছে। লাইনে কিছু বিশৃঙ্খলা হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের লোকজন কিছু বলছে না। ফলে সাধারণ মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

একই চিত্রের দেখা মিললো মণিহার এলাকার মনিরউদ্দিন পেট্রোলপাম্পে। সেখানে তেলের লাইন পৌঁছেছে আধা কিলোমিটার ছাড়িয়ে বিসিএমসি কলেজ পর্যন্ত। শুধু মোটরসাইকেল নয়, প্রাইভেট কার, ট্রাক সবই আছে লাইনে। পাম্পের গেটে কথা হয় বকচর এলাকার শামীম হোসেনের সাথে। তিনি জানান, সকাল সাড়ে ১১টায় লাইন দিয়ে দুপুর আড়াইটা পার হয়ে গেছে। এখনও পাম্পে ঢুকতে পারেননি। এভাবে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে তেল নিতে গিয়ে তো দিন পার হয়ে যাচ্ছে।

বেজপাড়া এলাকার পারভেজ আনোয়ার জানালেন, এখানে দুই তিনটা লাইন দাঁড় করানো হয়েছে। কেউ কেউ লাইনের বাইরে গিয়েও জোর করে তেল নিচ্ছেন। এ নিয়ে ঠেলাঠেলিও হচ্ছে। কিন্তু প্রশাসনের ভূমিকা পাওয়া যাচ্ছে না।

মনির উদ্দিন পাম্পের কর্মকর্তা আবু হুরায়রা জানান, তারা প্রতিদিন সাড়ে ৪ হাজার লিটার ডিজেল, তিন হাজার লিটার অকটেন ও তিন হাজার লিটার পেট্রোল বিক্রি করছেন। প্রতিদিন তেল পাওয়ার সাথে সাথে স্থানীয় একটি গ্রুপ মোটরসাইকেল নিয়ে ঢুকে পড়ছে এবং তারা নিজেদের আয়ত্বে নিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

মনির উদ্দিন পাম্পের স্বত্বাধিকারী এসএম খালিদ জানান, প্রতিদিন যে সরবরাহ পাচ্ছি, তা দিনের দিনই শেষ হয়ে যাচ্ছে। তারপরও একটি গ্রুপ হ্যাডাম দেখিয়ে নিজেরা ইচ্ছেমতো তেল নিয়ে যাচ্ছে। ৯৯৯ বা প্রশাসনের কাছে ফোন করেও সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না। যে দু’একজন পুলিশ রয়েছেন তারা কিছুই করতে পারছেন না।

এদিকে, উপশহর এলাকার মকবুল ফিলিং স্টেশনে দেখা মিলেছে লম্বা লাইনের। পেট্রোল পাম্প ছাড়িয়ে লাইন গিয়ে ঠেকেছে ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের মুখ পর্যন্ত। এখানে কথা হয় উপশহর বি-ব্লকের বাসিন্দা বাবর আলীর সাথে। তিনি জানান, সকাল ১১টায় লাইন দিয়ে দুপুর দুইটায় পাম্পে পৌঁছেছেন। সকাল ৮টা থেকেই পাম্পে তেল দেওয়া হচ্ছিল। এখন বিরতি চলছে বিরতি শেষ হলে তেল পাবেন বলে আশায় রয়েছেন। তবে এভাবে প্রতিদিন লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি, এই আজাব থেকে মুক্তি চান।

স্থানীয় কয়েকজন জানালেন, এখানে একটি লাইনে তেল দেওয়া হচ্ছে। কেউ কেউ ঝামেলা সৃষ্টির চেষ্টা করলেও তারা সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করেছেন। ফলে সুশৃঙ্খলভাবে তেল দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এই শৃঙ্খলা রাখতে বেগ পেতে হচ্ছে। প্রশাসনের খুব একটা সহযোগিতা মিলছে না। মকবুল ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী শবনম মুস্তারি বলেন, তিনি সোমবার তিন হাজার লিটার ডিজেল, দুই হাজার লিটার অকটেন ও তিন হাজার লিটার পেট্রোল পেয়েছিলেন। ডিজেল, অকটেন শেষ হয়ে গেছে। এখন শুধু পেট্রোল দেওয়া হচ্ছে।

এই পাম্পগুলোয় তেল মিললেও উপশহরের প্রান্তিক পেট্রোলিয়াম বন্ধ। এই পাম্পের ম্যানেজার মোসলেম শেখ জানালেন, মঙ্গলবার ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও সাড়ে ৫ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছিলেন। ওইদিনই তা শেষ হয়ে গেছে। তাই বুধবার আর তেল বিক্রি করতে পারেননি। বৃহস্পতিবার তেল পেলে আবার বিক্রি করবেন। রেশনিং করে ডিপো থেকে তেল দিচ্ছে, তেল পেলে বিক্রি করছি; না পেলে নাই।

একই অবস্থা শহরের দড়াটনাার তোফাজ্জেল হোসেন পেট্রোল পাম্পের। বুধবার তেল না থাকায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। ফলে ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড দেখে অন্য পাম্পে ছুটছেন গাড়িচালকরা।

আমাদের ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আগামী ইউপি নির্বাচন ঘিরে মণিরামপুরে বিএনপির ঐক্যের শপথ

নড়াইলে গণতন্ত্র অলিম্পিয়াড, অংশ নিলেন ২৭৫ শিক্ষার্থী

যশোর নওয়াপাড়ায় কৃষক দলের কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কেশবপুরে মাইকেল মধুসূদনের ১৫৩তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

কেশবপুরে মাদ্রাসার কমিটি গঠন নিয়ে বিরোধ, সংবাদ সম্মেলনে মারধরের অভিযোগ

যশোরে পৃথক অভিযানে মাদক ও চাকুসহ তিনজন আটক

যশোরে আওয়ামী লীগের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে বিএনপি নেতাকে হত্যার হুমকির অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

হেরোইনের মামলায় বেনাপোলের জামাল হোসেনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

যশোরে যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং রোধে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ অভিযান শুরু

পলাশবাড়ীতে মারধর ও বাড়িঘর ভাঙচুরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

রাম মন্দিরের অনুদান আত্মসাৎ, বিপাকে মোদি সরকার

সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল দ্রুত চালুর দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশ

শৈলকূপায় বিদ্যালয়ের আঙিনায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন

যশোর জেনারেল হাসপাতালে দালাল চক্রের সন্দেহে একজন আটক

চৌগাছায় ট্রলির সঙ্গে মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলশিক্ষক আহত

বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলনে ন্যায়বিচার দাবি

শৈলকুপায় পিকআপ-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে স্কুলছাত্র নিহত

হাটহাজারীতে ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২

আগামী পাঁচ দিন দেশজুড়ে বজ্রবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার সম্ভাবনা

ব্রাজিল-জাপান ম্যাচে সেই ক্রোয়েশিয়ান রেফারি

X