
প্যাথলজি পরীক্ষা নিয়ে হ-য-ব-ল অবস্থা বিরাজ করছে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে। কেউ রোগীদের পরীক্ষা না করিয়েই বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট ধরিয়ে দিচ্ছেন। আবার কেউ খোদ হাসপাতালের রিপোর্ট জাল করছেন। অপরদিকে, ওয়ার্ড থেকে রোগীদের ব্যবস্থাপত্র ও টেস্টের কাগজপত্রও হারিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নানা পদক্ষেপ নিলেও এর সুফল মিলছে না। এদিনও, হাসপাতাল থেকে একটি ডোপ টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট উদ্ধার করা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৬ এপ্রিল সকালে সদর উপজেলার ডাকাতিয়া গ্রামের জহিরুল ইসলামের ১৬ মাস বয়সী মেয়ে আয়সা খাতুন ডায়রিয়া নিয়ে সংক্রমণ ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। ৮ এপ্রিল সকালে চিকিৎসক রাউন্ডে এসে রোগীর ব্যবস্থাপত্র দেখতে চাইলে সেবিকারা তা দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে রোগীর স্বজনদের পুনরায় ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে পরে রহস্যজনকভাবে হারানো ব্যবস্থাপত্রটি শিশু ওয়ার্ড থেকে উদ্ধার করা হয়। একই দিনে শিশু ও সংক্রমণ ওয়ার্ডে আরও অন্তত চারটি ব্যবস্থাপত্র হারানোর ঘটনা ঘটে। এদিকে, প্যাথলজি পরীক্ষা নিয়েও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এসকে আবজাল হোসেন নামে এক যুবক ৬ এপ্রিল হাসপাতালে এক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে টাকা দিয়ে ডোপ টেস্ট করান। ৮ এপ্রিল রিপোর্ট সংগ্রহ করে তিনি যশোর সিভিল সার্জন অফিসে যাচাই করতে গেলে তা ভুয়া বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। রিপোর্টটির আইডি নম্বর ছিল ১১০।
হাসপাতালের প্যাথলজি ইনচার্জ জানিয়েছেন, ক্যাশ মেমো ছাড়া কোনো পরীক্ষা করা সম্ভব নয় এবং উক্ত আইডি নম্বরের সাথে কোনো রেকর্ডের মিল পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট যুবক স্বীকার করেন, একটি কম্পিউটার দোকান থেকে রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছিল।
অপরদিকে, কুইন্স হাসপাতালের নামে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভুয়া রিপোর্ট দেওয়ার ঘটনা প্রকাশের পর সংশ্লিষ্ট চক্রটি গা ঢাকা দিয়েছে। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হুসাইন সাফায়েত বিষয়টি তদন্তের জন্য আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার হাবিবা সিদ্দিকা ফোয়ারাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। একই সঙ্গে প্রতারণা ঠেকাতে প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
মন্তব্য করুন