
ঝিনাইদহ কালীগঞ্জ শহরে শিবনগর এলাকায় অবৈধ ও গোপনীয়ভাবে হলুদে ভেজাল দিয়ে মাড়াই করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ কারখানায় ক্ষেতের হলুদের সঙ্গে ধানের কুড়া, পচা চাল, ভুট্টা, বুটের ডাল ও রং মিশিয়ে মেশিনে তৈরি করা হচ্ছে গুঁড়া হলুদ। এই হলুদগুলো প্যাকেট করে পাইকারী দামে বাজারজাতে মেতে ওঠেছে একটি চক্র। কালীগঞ্জ শহরে শিবনগরে অবস্থিত সাইনবোর্ডবিহীন তোতা মিয়ার মিয়ার মিলে গুড়া হলুদ তৈরি করছে দেদারছে। এই মিলটিতে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ও বাইরে থেকে আসা অসাধু ব্যবসায়িরা বিপুল পরিমাণ শুকনো হলুদ মাড়াই করার সময় বিভিন্ন উপকরনসহ রং মিশিয়ে দিচ্ছে। ভেজাল হলুদ মাড়াইকরণের সময় মিলটির প্রবেশের দরজা বন্ধ করে ৭/৮ জন শ্রমিক দিনে ও রাতে ভেজাল মেশানোর কাজ করা হয়।
কালীগঞ্জে শুক্রবার ও শনিবার দুটি সাপ্তাহিক হাটের দিন হলুদে ভেজাল মেশানের কাজ বেশি হয়। সরেজমিনে মিলটিতে গিয়ে কুড়া, পচা চাল, ভুট্টা, বুটের ডাল ও রং মিশিয়ে বুট ও আতপ চাল মেশানো স্তুপের দেখা মেলে। মিলের পিছনে এসব ভেজাল দেওয়া বিভিন্ন প্রকার বস্তু মজুদ রয়েছে। হলুদে ভেজাল মেশানোর ব্যাপারে মিলটির স্বত্বাধিকারী তোতা মিয়ার সাথে কথা হলে তিনি সত্যতা স্বীকার করেন। এসময় তিনি বলেন, শুকনা হলুদ মেশিনে ভাঙালে কমে যায়। এজন্যই বিভিন্ন ব্যবসায়িরা চালের গুড়াসহ নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্য মিশিয়ে থাকে। তিনি দাবি করেন কালীগঞ্জ শহরে যেসব মিল রয়েছে প্রতিটি মিলে এভাবে হলুদে বিভিন্ন প্রকার ভেজাল দেওয়া হয়।
কালীগঞ্জ পৌরসভার স্যানিটারি ইন্সপেক্টর আলমগীর কবির বলেন, অভিযোগ পেলে অবশ্যই মিলটিতে অভিযান চালিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌরসভার প্রশাসক রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, খাদ্যে বা হলুদে ভেজাল মেশানো আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এই ধরনের কর্মকান্ড পরিচালনাকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন